৮ জেলায় মুক্তিযোদ্ধা যাছাই কমিটির কার্যক্রম স্থগিত


প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাই এবং ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা সনাক্ত করার জন্য গঠিত দেশের আট জেলা কমিটির কার্যক্রমের ওপর স্থগিতাদেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

জেলাগুলো হলো- গোপালগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ,  নোয়াখালী, চাঁদপুর, গাইবান্ধা, নীলফামারী, ঝালকাঠি ও সিলেট।

বিচারপতি সালমা মাসুদ  চৌধুরী ও বিচারপতি কাজী মো. ইজারুল হক আকন্দ সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ বৃহস্পতিবার রুল জারিসহ এই আদেশ দেন।

রুলে কমিটি গঠনের গেজেট কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তা মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব ও উপসচিব, জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের (জামুকা) মহাপরিচালক, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ  কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের  চেয়ারম্যান, গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং  ডেপুটি কমান্ডারকে  জানাতে বলা হয়েছে।

হাইকোটের এই আদেশের ফলে সংশ্লিষ্ট আটটি জেলায় মুক্তিযোদ্ধা যাছাই-বাছাই কার্যক্রম স্থগিত থাকবে বলে জানিয়েছে রিটকারীর আইনজীবী মো.মনিরুজ্জামান।

তিনি সাংবাদিকদের বলেন, প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা যাছাইয়ের জন্য জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের (জামুকা) যে নির্দেশিকা রয়েছে, সে অনুযায়ী কমিটি গঠন করা হয়নি। এ কারণে হাইকোর্ট কমিটি গঠনের যে প্রজ্ঞাপন তার কার্যক্রম স্থগিত করেছেন।

তিনি জানান, গত ২১ জানুয়ারি মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাইয়ের জন্য আট জেলার কমিটি গঠন করে প্রজ্ঞাপন জারি করে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়। এতে গোপালগঞ্জের  কোটালীপাড়ার মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার সরদার আব্দুল মালেককে বাদ দিয়ে ডেপুটি কমান্ডার মো. মজিবুল হক মিয়াকে কমিটিতে রাখা হয়েছে। অথচ জামুকা প্রনীত ‘নির্দেশিকা’ অনুসারে নিয়ম হচ্ছে কমিটিতে কমান্ডার থাকবেন। কিন্তু কোটালীপাড়ায় কমান্ডারকে রাখা হয়নি।

তিনি আরও জানান, তাই গেজেটের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রিট করেন কোটালিপাড়ার কমান্ডার আব্দুল মালেক। হাইকোর্ট শুনানি নিয়ে পুরো গেজেটের কার্যকারিতা স্থগিত করে রুল দিয়েছেন। এখন গেজেট স্থগিত হওয়া মানে পুরো আট জেলার কমিটির কার্যক্রম স্থগিত থাকবে।

আদালতে রিট আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মনিরুজ্জামান। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি  জেনারেল অরবিন্দ কুমার রায়।

এর আগে গত ২৩ জানুয়ারি হাইকোর্টের অপর একটি বেঞ্চ পৃথক একটি রিটের শুনানি নিয়ে জামুকার নির্দেশিকা ও কমিটির গঠনের বৈধতা নিয়ে রুল জারি করেছেন। দুই সপ্তাহের মধ্যে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে এই রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

মন্ত্রণালয় সুত্রে জানা গেছে, হাইকোর্টে একটি রিটের কারণে দুই বছরেরও বেশি সময় বন্ধ থাকার পর নির্ভুল মুক্তিযোদ্ধার তালিকা প্রণয়নের লক্ষে গত ২১ জানুয়ারি থেকে দেশের উপজেলা ও মহানগরে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা যাছাই-বাছাই কার্যক্রম শুরু করেছে সরকার।

আগামী ১৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত প্রতি শনিবার উপজেলা পরিষদ চত্ত্বরে এবং মহানগরে জেলা প্রশাসকের এই যাচাই-বাছাই কার্যক্রম চলবে। ইতিমধ্যে মন্ত্রণালয়ে ওয়েবসাইটে এবং সমকালসহ বিভিন্ন পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জেলা সদর, উপজেলা ও মহানগর পর্যায়ে কবে ও কোথায় যাছাই-বাছাই কার্যক্রম চলবে, তা জানানো হয়েছে।

Facebook Comments