হেফাজতের দোয়ায় গ্রিক দেবী থেমিস হাঁটতে শিখেছেন!


ইঞ্জি.আরিফ চৌধুরী শুভ।।

ছোটবেলায় বাবা গল্প শুনাতেন বিভিন্ন প্রসঙ্গ নিয়ে। হেফাজতের ভাস্কর্য বিরোধীতায় সরকারের ভাস্কর্য স্থানান্তর নিয়ে বাবার মুখে শোনা একটি গল্পের কথা মনে পড়ে গেল।

ইবলিশ নামে এক ছেছরাচোর বাস করতো গ্রামে।প্রতিদিনই মসজিদের ঈমামের কাছে ইবলিশের নামে চুরির অভিযোগ দিত গ্রামবাসী। কিন্তু ইবলিশকে কেউ হাতেনাতে ধরতে না পারলেও সবাই জানতো এই চুরি একমাত্র ইবলিশেরই কাজ। ইবলিশ একরাতে মসজিদের মাইক চুরি করলো এবং আরেকরাতে দারোগার বউয়ের গয়না চুরি করলো।ইবলিশের বেপারোয়া চুরি দেখে মসজিদের ঈমাম দারোগার সাথে যুক্তি করে একটি লোভনীয় প্রস্তাব দিলেন ইবলিশকে। ঈমাম সাহেবের ধারণা, ইবলিশ তার এই প্রস্তাবে রাজি হলে জীবনে চুরির পথ থেকে বেরিয়ে না এসে পারবে না। তাই একদিন ইবলিশকে ডেকে সেই লোভনীয় প্রস্তাবটি দিলেন ঈমাম সাহেব।

প্রস্তাবটি ছিল এই রকম যে, চুরি ছেড়ে দিয়ে টানা একমাস  জামাতের সহিত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়লে প্রতি ওয়াক্ত নামাজের জন্যে মাস শেষে ১০০ টাকা করে দেওয়া হবে ইবলিশকে। ইবলিশ ভেবে দেখলো যে, সারারাত ঘুমমেরে চুরি করলেও কোন কোন দিন ৫০০ টাকা আয় করা সম্ভব না। আর মাত্র ৫ ওয়াক্ত নামাজ পড়লেই দৈনিক ইনকাম ৫০০ টাকা। প্রস্তাবটা মন্দ না। ইবলিশ রাজি হয়ে গেল ঈমামের প্রস্তাবে কিন্তু ঈমাম সাহেবের প্রতি ইবলিশের শতভাগ আস্থা রাখতে পারেনি।তাই ইবলিশ মনে মনে যেমন সন্দেহতীত তেমনি কৌশলী।

ঈমাম সাহেব মহাখুশি এই ভেবে যে,মসজিদের মাইকচুরি আর দারগার বউয়ের গয়না চুরির শাস্তি অন্তত একমাস পরেই টের পাবে ইবলিশ। ইবলিশকে মসজিদে দেখলেই ঈমাম সাহেব মুছকি হেসে দিতেন আর ভাবতেন এবার ফাঁদে আটকিলিরে ইবলিশ। দারোগার কাছে রক্ষা পেলেও আমি ঈমাম বেটার বুদ্ধির কাছে তোকে হারতেই হবে।

ইবলিশ নিয়মিত নামাজ পড়তে লাগলো। কিন্তু চুরি ছাড়েনি। এই একমাস ইবলিশ পাশের গ্রামে চুরি করতো। তাই একমাস গ্রামে আর কোন চুরির নালিশ করেনি কেউ ইবলিশের নামে। মাস শেষে ইবলিশ টাকা চাইতে গেল ঈমামের কাছে।ঈমাম সাহেব তখন ইবলিশকে বললো কিসের টাকা? যেন তিনি জানেন ই না ব্যাপারটা। ইবলিশ বললো, কেন আপনি না বলেছেন প্রতি ওয়াক্ত নামাজের জন্যে ১০০ টাকা করে দিবেন। আমি তো নামাজ পড়েছি আপনার পেছনেই। দেন এবার টাকা দেন। ঈমাম সাহেব হেসে দিয়ে বললেন ওরে ইবলিশ কোন সক্ষি আছে তোর দাবির পক্ষে। আর নামাজ পড়েছিস তাতে তো তোরই লাভ হয়েছে, আমি টাকা দিতে যাবো কোন দুখে। নামাজ পড়লে কেউ কোনদিন টাকা পায় তোর বাপদাদার জীবনেও শুনছিস। ইবলিশ তখন রাগে ক্ষোভে বলল তাহলে কি টাকা দিবেন না? ঈমাম সাহেব এবার ইবলিশকে লোভনীয় দ্বিতীয় প্রস্তাব দিয়ে বললেন, টাকা দিতে পারি একটা সত্ত্বে। যদি তুই একমাস তবলিগে যাস আমার সাথে। তাহলে বাড়ি ফেরার সময় দ্বিগুন টাকা হাতে গুনে দিব তোর।

ইবলিশ তখন হেসে দিয়ে বললো, আমি আগেই বুঝতেহ পারছি আপনি আমার সাথে শর্ত শর্ত খেলবেন। আমার আগেই সন্দেহ হয়েছে আপনাকে যে আপনি কথা দিয়ে কথা রাখবেন না।আমার সাথে গড়িমসি করবেন টাকা নিয়ে।তাই আমিও বুদ্ধি করে অযু ছাড়াই নামাজ পড়ছি।

গল্পটি ছোটবেলার রসিকতার চলে শুনলেও বর্তমান সময়ে গল্পটির মধ্যে অনেক প্রাসঙ্গিকতা খুঁজে পাই। হেফাজতে ইসলাম ভাস্কর্য আর মূতিকে এক করে জোরালো দাবি তুলেছেন, সুপ্রিমকোর্ট এর সমানে থেকে গ্রিক দেবী থেমিসের ভাস্কর্যটি সরানোর জন্যে। এই দাবির পিছনে আরো জোরালো মতামত ছিল যে, জাতীয় ঈদগাহ ময়দান থেকে এটি দেখা যায়। তাই প্রধানমন্ত্রীকে হেফাজতের নেতারা হুমকি দেন এই বলে যে, এটি সরানো না হলে ২০১৩ সালের ৫ মের মতো শাপলাচত্ত্বরে সমাবেশ করবে দলটি। অনেকটা হীরক রাজার রাজ্যে তার হুকুম জারির মতো হেফাজতের মুখে এই আদেশ শুনলো দেশবাসি।

হেফাজতের এমন প্রস্তাবে সরকার জাতীয় নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে যখন অনেকটা দিশেহারা, ঠিক তখনই হেফাজতের নেতারা সুযোগটি কাজে লাগালেন। এক ঢিলে দুই পাখি স্বীকার করলেন তারা। কোন সংস্কার ছাড়াই ক্বাওমি মাদ্রাসার সবোর্চ্চ স্তর দাওরায়ে হাদিসকে সাধারণ শিক্ষার সমমানে স্নাতোকত্তর এর মান নিয়ে নিলেন। অথচ ২০০৬ সালে মাদ্রাসা শিক্ষার সমমানের যে দাবি উঠেছিল তখন, সেটি পূরণের আগে মাদ্রসা শিক্ষায় সংস্কার আনার পাশাপাশি ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে শর্তরেখে সনদ প্রদানের নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।কারণ স্নাতোকত্তরের সনদ একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয়ই প্রদান করতে পারেন। কিন্তু হেফাজতের শীর্ষ প্রধান শফী হুজুর যিনি তেঁতুল হুজুর নামে পরিচিত, তিনিও দাওরায়ে হাদিসের সমমান চাওয়ার আগে ভাবলেন না এই দাবি কতটুকু যৌক্তিক ও বাস্তবতার সাথে সঙ্গতিপূর্ণ। হয়তো ভেবেছেন কিন্তু স্বীয়স্বাথের উধ্বে উঠতে পারলেন না।সরকারের ভেতরে ও বাইরের বিভিন্ন মহল এবং শিক্ষাবীদদের মতামত উপেক্ষা করে হেফাজতের এই দাবি মেনে নেওয়ার মাধ্যমে ক্বওমি মাদ্রাসার শিক্ষা ব্যবস্থা আবারো যেমনি আলোচনায় আসলো, তেমনি সরকারের হেফাজতি আঁতাত একটি দুর্বল রাজনৈতিক কৌশলের পরিচয় দিয়েছে আমাদের কাছে। ফলে সমমান প্রদানের বিপক্ষে বিভিন্ন মহলে আক্ষেপ ও নিন্দার পাশাপাশি রাস্তায় নামেন বিভিন্ন মাদ্রাসার সাধারণ শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা। এটি নামারই কথা।

সরকার কতটা নতজানু হেফাজতের কাছে তা সরকারের শিক্ষামন্ত্রীর বক্তব্যেই স্পষ্ট। শিক্ষামন্ত্রীকে যখন প্রশ্ন করা হয়, হেফাজতকে কিভাবে এই সাটিফিকেট দেওয়া হবে? তখন তিনি বলেন, ‘তারা যে ভাবে চাইবে সরকার সেভাবে তাদের সাটিফিকেট দিবে’ (প্রথম আলো-১৪ এপ্রিল ২০১৭)। অনেকটা মামার বাড়ির জৈষ্ঠ্যমাসের আমের আবদারের মতো। সরকারের মতো আমরাও চাই হাজার হাজার ক্বাওমির শিক্ষার্থী মূলধারার শিক্ষা গ্রহণ করুক। তারাও আমাদের মতো ইংরেজি, বিজ্ঞান, অংক, বাংলা, সাহিত্য, দর্শন, জীবন ও জৈবিক বিষয়গুলি অত্মস্থ করুক।মসজিদে আযান দেওয়া আর পরের ঘরে খাওয়ার পরিবতে জাতীয় অর্থনীতিতে তারাও অবদান রাখুক। কিন্তু যারা এদেশের জাতীয় সঙ্গিত রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর লিখছেন বলে সেটি পড়েন না, পড়ানও না, মুক্তিযুদ্ধের ইতহাসকে সঠিক ভাবে পাঠ্যপস্তুকে স্থান দেন না, পাঠ্যপুস্তকে সাম্প্রদায়িকতায় সাজিয়ে তোলেন, পাঠ্যপুস্তক পরিবর্তন করেন, সাহিত্যকে বেদাত ও নাযায়েজ বলে শিক্ষার্থীদের সাহিত্য চর্চা থেকে দূরে রাখেন, প্রকাশ্যে সাম্প্রদাংয়িকতা লালন করেন, তারা কিভাবে মূলধারার শিক্ষার সমমানের দাবিদার? তাদের এই সমমান একদিকে যেমন হাস্যকর, তেমনি সাধারণ ধারার শিক্ষার্থীদের সাথে প্রতারণা ও বৈষম্য ছাড়া আর কিছু নয়।

সরকার একদিকে শিক্ষা ব্যবস্থার শুদ্ধনীতি চর্চা করতে গিয়ে নকলের বিরুদ্ধে এককট্ট অনড় অবস্থান দেখান, অন্যদিকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ক্বাওমি সনদের বৈধতা দিয়ে প্রকারন্তে সরকার নকলকেই স্বীকৃতি দিচ্ছেন। যেহেতু ক্বাওমি শিক্ষাব্যবস্থা সরকারের নজরদারী ও শিক্ষা কমিশনের বাইরে সুতরাং এই সকল প্রতিষ্ঠান থেকে অজিত সনদ নকলেরই নামান্তর। এই সনদের অপব্যবহার করে যে কেউ জাতীয় হুমকিতেও পরিণত হতে পারে। এমনিতেই জঙ্গিবাদ ও বিভিন্ন ইস্যুতে জাতীয় নিরাপত্তা বিভিন্ন ভাবে প্রশ্নবিদ্ধ। তাই সরকার হেফাজতকে মূলধারার শিক্ষায় আনায় কথা বললেও বাস্তবে হেফাজতিদের দ্বারা সেটি কি করা সম্ভব?

আজ সনদের যে দাবি পূরণ করলো হেফাজতিরা, কাল তারা রাস্তায় নেমে যদি (অর্থমন্ত্রীর মতে প্রায় ৫০ হাজার) ক্বওমি মাদ্রাসাগুলোকে সরকারিকরণ, সরকারি চাকুরিতে কোটা ব্যবস্থার দাবি ইত্যিাদি ইত্যাদি…তোলেন, তখন সরকার কি করবেন? ভাস্কর্য ইস্যু সমানে রেখে সাটিফিকেট সমমান দেওয়ার মতো সরকার কি তখনও অন্যকিছু দিয়ে আপোষ করবেন হেফাজতের সাথে, নাকি এরই মধ্যে সরকারের শুভ বুদ্ধির উদয় হয়েছে।

হেফাজতে ইসলাম যে এই সকল দাবি করবেন না, তা ইবলিশকে দেওয়া ঈমাম সাহেবের প্রস্তাবের মতো আমরাও আর বিশ্বাস করতে পারছি না। এই জন্যেই বিশ্বাস করতে পারছি না, সুপ্রিম কোটের সামনে গ্রিক দেবী থেমিসের যে ভাস্কর্য অপসারণের দাবি তুলেছিল হেফাজতে ইসলাম, হেফাজতের দোআয় সেই গ্রিক দেবী থেমিস হাঁটতে শিখেছেন। আদালত থেকে গ্রিক দেবী থেমিস হেঁটে হেঁটে ১০০ গজ দূরে গিয়ে দাঁড়িয়েছেন সুপ্রিম কোর্ট -এর এনেক্স ভবনের সামনে।এখন বলা হচ্ছে সবই আদালতের ইশারা। আমরাও বলছি অদালত চাইলে দেশের সার্বভৌমত্ত্ব ও শান্তি রক্ষাথে শুধু গ্রিক দেবী থেমিস কেন, ভাস্কর্য আইনও করত পারেন।

ভাস্কর্য অপসারণের পরপরই হেফাজতের নেতারা রাজপথে অভিনন্দন ব্যানার নিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা জানিয়ে আনন্দ মিছিল করেছেন, মিষ্টি মুখ করেছেন বিজয়ের আনন্দে এবং সাথে সাথে দ্বিতীয় দাবিও শুনিয়েছে প্রধানমন্ত্রীকে। এবার শুধু সুপ্রিম কোর্ট -এর এনেক্স ভবনের সামনে থেকে নয়, সারাদেশ থেকে সকল ভাস্কর্য অপসারণের জন্যে হুমকি দিয়েছেন সরকারকে। এই হুমকি মোকাবেলার সামর্থ কি সরকারের আদৌ আছে? তবে হেফাজতিরা এখন যতই আওয়ামী লীগের বন্ধু হন না কেন, এবার গলাবাজি করে যে পার পাবেন না তা আওয়ামী লীগ ও বামপন্থি নেতাদের তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়াই আমরা দেখেছি। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরতো বলেই দিলেন, ‘প্রশ্নেই আসে না মুক্তিযুদ্ধের ভাস্কর্য অপসারণের। তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইন্যুকেও প্রেসক্লাবে হেফাজত বিরোধী বক্তব্য দিতে দেখা গেল। বাহ! লেগেছে অগুন বানরের লেজে। এবার পুড়বে কার ঘর?

৪৫ বছরের বাংলাদেশে হেফাজত ইসলামের অবদান আমার জানা নাই। হেফাজতের কি জানা আছে? অথচ আজ রাষ্ট্র তাদের হুমকি মনে করছে প্রতিটি পদক্ষেপে। তারাও রাষ্ট্রকে একের পর এক হুমকির উপর রাখছে। কদিন আগেও যারা খাওয়া আর আযান দেওয়া ছাড়া কিছু বুঝতো না, হঠাৎ তারা চিন্তিত হয়েছেন বিচার বিভাগের সামনের ভাস্কর্য সরাতে এবং ইতিমধ্যে অনেকটা সফল। কিন্তু এবার তাদের দাবি সারাদেশের সকল ভাস্কর্য অপসারণ এবং গ্রিক দেবী থেমিস কেন পুনস্থাপন করা হলো সেটা নিয়ে। এবার আমাদেরও প্রশ্নো হেফাজতে ইসলাম আসলে কি চায়? ২০১৩ সালের পর বিভিন্ন সময় বিশ্রঙ্খলার দায়ে হেফাজতের বিরুদ্ধে রাষ্টের করা যে মামলাগুলো ঝুলে আছে, সেগুলো নিষ্পত্তি করা উচিত এখনই। দৈনিক খবররের কাগজগুলোতে যখন সংবাদ দেখি বিএনপি আর জামাতের বহু রাজনৈতিক কর্মী বিনাদোষে জেল খাটছেন, সেখানে হেফাজতিরা রাষ্ট্রের হাজার হাজার কোটি টাকা ক্ষাতি করেও দিব্যি হুমকি দিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন রাষ্ট্রের বুকে।এটা একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের জন্যে কখনো কাম্য নয়। এটা বাংলাদেশের স্বাধীনতার পরিপন্থি। আমাদের মুক্তিযুদ্ধের পরিপন্থি।

যে সফি হুজুর বলেছেন, তেতুলের মতো নারীকে দেখলে মুখের লালা ঝরে, সেই শফি সাহেব ১৩ জন সহযোগি নিয়ে কদিন আগেই ভাস্কর্য সরানো আর কাউমি স্বীকৃতির জন্যে ছুটে গিয়েছেন একজন নারীর কাছে। একজন প্রধানমন্ত্রীর কাছে। তারা আজ নারীর কাছে দাবি পূরণে ছুটে গেলেও কাল তারা রাস্তায় দাঁড়াবেন এই নারী ক্ষমতায়নের বিপক্ষেই। ২০১৩ সালের ৫ মে হেফাজতের ঢাকা অবরোধের সংবাদ সংগ্রহ করতে গেলে নারী সাংবাদিকের গায়ে হাত তুলে নারী ক্ষমতায়নের বিপক্ষে ইঙ্গিত দিয়েছেন আমাদের ।

ভাস্কর্য সরানোর প্রশ্নে প্রধানমন্ত্রী তখন বলেছেন, হাইকোর্টের সামনে গ্রিক দেবী থেমিসের মূর্তি লাগানোর বিষয় তিনি জানেন না। তবে এবার সুপ্রিম কোর্ট -এর এনেক্স ভবনের সামনে গ্রিক দেবী থেমিস হেঁটে যাওয়ার গল্প প্রধানমন্ত্রীর আজ অজানা নয়। প্রধানমন্ত্রী আমাদের চেয়েও বেশি জানেন ২০১৩ সালের ৫ মের শাপলা চত্ত্বরের হেফাজাতই ইসলামকে। আজ যে হেফাজত আওয়ামী লীগের বন্ধু তাদের উপরে এক আর ভিতরে আরেক রুপ সেটি দেশের সকল ভাস্কর্য সরানোর ঘোষণায় প্রধানমন্ত্রী পরিস্কার বুঝেছেন।

আমি নিশ্চিত প্রধানমন্ত্রী এতদিনে এটাও উপলব্ধি করেছেন যে, বাংলাদেশের মানুষ আর যা করুক না কেন মৌলবাদী আর জ্ঞাপপাপীদের সঙ্গ ত্যাগ করতে চায়। তারা অসাম্পদায়িকতার বাংলাদেশ চায়। তারা বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ চায়। কিন্তু হেফাজতকে সহযোগি রেখে আওয়ামীলীগ কি কখনো সেই স্বপ্নের বাংলাদেশ নির্মাণ করতে পারবে?যেমনটি পারেনি ৯৬ এ জামায়কে সঙ্গে জোট বেঁধে। তাই জামায়েতের মতো হেফাজতকেও সরকারের উচিত বয়কট করা।

প্রধানমন্ত্রী বার বার বলেন, তিনি নীতির সাথে কখনো আপোষ করেন না। তাহলে হেফাজতে ইসলামের সাথে আপোষ করে কি নীতি ভঙ্গ করেনি তিঁনি?

লেখক: সাংবাদিক ও লেখক।

উদ্যোক্তা ও সংগঠক, নো ভ্যাট অন এডুকেশন আন্দোলন

Facebook Comments