রমজান মাসে শ্রমিকদের কাজ হালকা করা ইসলামের আদর্শ


সাইদুর রহমান : যে শ্রমিক রমজানে দৈহিক পরিশ্রম করে, তার প্রতি আমাদের কমল আচরণ করতে হবে। তাদের কষ্ট লাঘব করা কর্তাদের একান্ত কর্র্তব্য। অধীনস্থ কর্মচারীদের দায়িত্ব ও কাজকর্ম হালকা করে দেওয়া এবং তাদের কাজের কমিয়ে দেওয়া ইসলামের বিধান। রমজান মাসে তাদের ওপর কষ্টকর কাজের বোঝা চাপানো অনুুচিত।

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘এ মাসে (রমজানে) যারা দাস-দাসীদের প্রতি সদয় ব্যবহার করে, অর্থাৎ তাদের কাজের বোঝা হালকা করে, আল্লাহ তাদের দয়াপরবশ হয়ে ক্ষমা করে দেন এবং জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা করেন।’

হাদিস শরিফে বর্ণিত আছে যে নবী করিম (সা.) বাণী প্রদান করেছেন, ‘তোমরা মাহে রমজানে দাস-দাসীর কাজকর্ম শিথিল করে দাও। তারা যেন রমজান মাসের ইবাদত যথাযথভাবে করতে পারে।

ইসলামে ধনী-গরিব, মনিব-চাকর, মালিক-শ্রমিকের কোনো পার্থক্য নেই। ইসলাম আদল-ইনসাফ ও ন্যায়নীতির ধর্ম। গৃহের মালিক নিজে যা খাবে ও পরবে অধীনস্থ কাজের লোকদের তা-ই খাওয়াবে ও পরাবে। নবী করিম (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘হে লোক সকল! আল্লাহ তোমাদের ভাইদের তোমাদের অধীন করে দিয়েছেন। অতএব, যার অধীনে কোনো ভাই থাকে তাকে তা-ই খাওয়াবে যা সে নিজে খায়, তাকে তা-ই পরাবে যা সে নিজে পরে এবং তাকে সাধ্যের অধিক কাজ চাপিয়ে দিবে না। অগত্যা তাকে দিয়ে যদি কোনো কষ্টের কাজ করাতে হয় তাহলে তাকে সাহায্য করবে।’ (বুখারি ও মুসলিম)

অপর দিকে শ্রমিক যদি রোজা রাখা সত্ত্বেও সাধ্যমতো কর্তব্য পালনে সচেষ্ট হয়, তাহলে সে সাধারণ কেউ রোজা রেখে যে সওয়াব পাবে তার দ্বিগুণ সওয়াব পাবে। অধীনস্থ কর্মচারী, শ্রমিক ও খেটেখাওয়া লোকদের পুরস্কারের কথা রাসুলে করিম সা. ঘোষণা করেছেন, ‘তিন ধরনের লোকের জন্য (প্রতিটি নেক কাজের) দ্বিগুণ সওয়াব রয়েছে। তন্মধ্যে এক ব্যক্তি হচ্ছে ওই দাস যে আল্লাহর হক ও মনিবের হক উভয় আদায় করে।’

প্রকৃত রোজাদার মুমিন ব্যক্তি সদা আল্লাহর প্রতি দায়িত্বশীল এবং মানুষের প্রতি কর্তব্যপরায়ণ থাকেন। শ্রমিকের অধিকার রক্ষায় সচেষ্ট থাকাই ঈমানদারের দায়িত্ব। তার ঘরে যেসব কাজের লোক রয়েছে তাদের প্রতিও তার অধিকার রয়েছে। দৈনন্দিন ব্যবহারিক জীবনে তাদের এ ন্যায্য অধিকার আদায় করতে হবে। কোনো রোজাদার ব্যক্তি এ ব্যাপারে শৈথিল্য দেখাতে পারেন না। মালিক শ্রেণির সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে অফিস-আদালতের মতো শ্রমিকের কর্মঘণ্টা কমানোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা দরকার। প্রয়োজনে তাদের জন্য সামান্য ভাতার ব্যবস্থাও করা যেতে পারে। যে রোজাদার ব্যক্তি তার অধীনস্থ কাজের লোকদের প্রতি সদ্ব্যবহার দেখাবে, আল্লাহ তার প্রতি অসীম দয়ার হাত প্রসারিত করবেন এবং তাকে বেহেশত দান করবেন। নবী করিম সা. বলেছেন, ‘যার মধ্যে তিনটি গুণ থাকবে, আল্লাহ তাঁর ওপর রহমতের ডানা প্রসারিত করবেন এবং তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন। ১. দুর্বলের সঙ্গে নম্র ব্যবহার, ২. পিতামাতার সঙ্গে মমতা জড়ানো কোমল ব্যবহার ৩. দাস-দাসীর প্রতি সদাচরণ।’ (তিরমিজি)

গৃহভৃত্য ও পরিচারিকারাও আল্লাহর বান্দা, রমজান মাসেও তাদের কষ্ট দিগুণ হয়। এজন্য তাদের কাজকে লাঘব করা এবং কাজ কমিয়ে দেওয়া ইসলামের আদর্শ। নবী করিম সা. এরশাদ করেছেন, ‘তোমরা মাহে রমজানে দাস-দাসীর কাজকর্ম শিথিল করে দাও। তারা যেন রমজান মাসের ইবাদত যথাযথভাবে করতে পারে।’ (আদাবুল মুফরাদ)

নবী করিম সা. এ জাতীয় দুর্ব্যবহার থেকে উম্মতকে বিরত থাকার জন্য কঠোরভাবে নিষেধ করেছেন। অধীনস্থ লোকদের প্রতি সদ্ব্যবহার করা হচ্ছে না বলেই সমাজে মালিক-শ্রমিক ব্যাপক বৈষম্য বিদ্যমান রয়েছে, যা সভ্য সমাজের জন্য মোটেও গ্রহণযোগ্য নয়। সুতরাং মাহে রমজানসহ সর্বাবস্থায় কঠোরতা পরিহার করে রোজাদারদের আচার-ব্যবহারে ইসলামের সদাচরণ, ক্ষমা, উদারতা ও কোমলতার মহৎ গুণাবলির বহিঃপ্রকাশ বাঞ্ছনীয়।

Facebook Comments