ভাষা আন্দোলন থেকে স্বাধীনতা : ইতিহাসের সারাংশ


মাজেদুল হক তানভীর

প্রথম পর্যায়  ১৫ ই সেপ্টেমবর, ১৯৪৭:  ইসলামি আদর্শে অনুপ্রাণিত লেখক, সাংবাদিক ও বিদ্দজ্জনদের সংগঠন তামুদ্দুন মজলিস ‘স্টেট ল্যাঙ্গুয়েজ অফ পাকিস্তান : বেংগলি অর উর্দূ’ নামে একটি পুস্তিকাতে বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্র ভাষা করার দাবী করে। মজলিসের সেক্রেটারি এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আবুল কাশেম রাষ্ট্র ভাষা বিষয়ে প্রথম একটি আলোচনা সভা ডাকেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক মুসলিম হলে।

নভেম্বর, ১৯৪৭: করাচিতে বাঙ্গালি শিক্ষা মন্ত্রী ফজলুর রহমানের ডাকা পাকিস্তান এডুকেশনাল কনফেরেন্সে পূর্ব বাংলার প্রতিনিধিরা উর্দূকে একমাত্র রাষ্ট্র ভাষা হিসেব গণ্য করার বিরোধিতা করলেন।

২৩ শে ফেব্রুয়ারী, ১৯৪৮: “বিরোধী সদস্য ধীরেন্দ্র নাথ দত্ত উর্দূ ও ইংরাজির সঙ্গে বাংলাকে জাতীয় ভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দেবার জন্য পাকিস্তানের কন্সটিটুয়েন্ট অ্যাসেমব্লিতে একটি প্রস্তাব আনেন। প্রধান মন্ত্রী লিয়াকত আলি এবং অন্যান্য অবাঙ্গালি সদস্যরা প্রস্তাবটির বিরোধিতা করেন। দুঃখজনক ভাবে, দেশের পূর্বাঞ্চল থেকে আসা সদস্য খাজা নাজিমুদ্দিন এবং পশ্চিম পাকিস্তানীদের সহযোগী আরো কয়েক জন বাঙ্গালি সদস্যও এর বিরোধিতা করেন। পরে দত্ত প্রস্তাবটির কয়েকটি সংশোধনী আনলেও প্রত্যেক বারই পশ্চিম পাকিস্তানীরা এবং তাদের অনুগত কয়েক জন বাঙ্গালি সদস্য বিরোধিতা করতে থাকেন। সংখ্যাগুরু বাঙ্গালিদের এই ন্যায্য দাবী মেনে নেওয়ার বিরুদ্ধে পশ্চিম পাকিস্তানী সদস্যরা ছিলেন অনড়।” (রফিকুল ইসলাম)।

বাঙ্গালি আমলা, শিক্ষাবিদ, ছাত্র এবং মধ্যবিত্তদের অন্যান্য অংশের সমর্থনপুষ্ট হয়ে বাংলাকে অন্যতম জাতীয় ভাষা করার দাবী শক্তিশালী হয়ে ঊঠল, আর ১৯৪৮ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে এই বিতর্ক রাস্তায় নেমে আসে। বলা হয়, মন্ত্রী সহ প্রভিন্সিয়াল অ্যাসেম্বলির বেশ কিছু সদস্যও সক্রিয় ভাবে এই আন্দোলনকে সমর্থন করেছিলেন। মুজিবুর রহমান প্রতিষ্ঠিত ইস্ট পাকিস্তান স্টুডেন্ট লীগ এই আন্দোলনের পুরোভাগে ছিল।” (হাসান জাহির)।

মার্চ, ১৯৪৮(প্রথম সপ্তাহ): বাম, দক্ষিন ও মধ্য পন্থী–ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সব রাজনৈতিক মতাবলম্বী ছাত্ররা মিলে বাংলা ভাষাকে জাতীয় মর্যাদায় প্রতিষ্ঠা করার উদ্দেশ্যে একটি কমিটি গঠন করলেন।

মার্চ ১১, ১৯৪৮

বাংলাকে জাতীয় ভাষা করার দাবীতে আন্দোলনরত ছাত্রদের উপর পুলিশের লাঠি চার্জ, ঢাকার বহু ছাত্র গ্রেপ্তার। “পরের দিনগুলিতে পরিস্থিতির আরো অবনতি। ১৯ শে মার্চ থেকে কায়েদ-এ-আজমের ঢাকা সফরের কথা ছিল। ব্যাপক বিক্ষোভের চাপে গভর্নর জেনারেলের আসন্ন সফরের অপেক্ষায় থাকা বিচলিত নাজিমুদ্দিনের প্রাদেশিক সরকার অ্যাকশন কমিটির সঙ্গে আলোচনায় বসার জন্য মুহম্মদ আলি বোগরার সাহায্য প্রার্থনা করল। নাজিমুদ্দিনের সঙ্গে কমিটির এই মর্মে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয় যে, (১)পূর্ব পাকিস্তানে বাংলাকে সরকারী ভাষার মর্যাদা দিতে এবং সর্ব স্তরে শিক্ষার মাধ্যম হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে প্রাদেশিক সরকার একটি প্রস্তাব উত্থাপন করবে এবং (২) অ্যাসেম্বলিতে আর একটি প্রস্তাবে কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে বাংলাকে জাতীয় ভাষা করার জন্য সুপারিশ করা হবে (হাসান জাহির)।

মার্চ ২১, ১৯৪৮: পাকিস্তানের স্রষ্টা এবং প্রথম গভর্নর জেনারেল মহম্মদ আলি জিন্না পূর্ব বাংলা সফরকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে ঘোষণা করেন, “বাংলাকে প্রাদেশিক ভাষা হিসেবে গণ্য করা যেতে পারে, কিন্তু উর্দূ ছাড়া অন্য কোন ভাষা রাষ্ট্র ভাষা হতে পারেনা। আপনাদের যারা বিপথে চালিত করার চেষ্টা করছে, তারা পাকিস্তানের শত্রু।”

“তাঁর এই মন্তব্যে অপমানিত বোধ করা বাঙ্গালি যুব সমাজ ক্রুদ্ধ প্রতিক্রিয়া জানাল, কেননা তাদের যুক্তি, পাকিস্তানের জন সংখ্যার পঞ্চাশ ভাগ মানুষেরই মাতৃ ভাষা বাংলা । যাঁরা প্রতিবাদের আওয়াজ তুলেছিলেন এবং আটক হন, তাঁদের মধ্যে ছিলেন সেই সময়ে বিশ্ব বিদ্যালয়ের ছাত্র শেখ মুজিবুর রহমান। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরেই বাংলা ভাষার সমর্থনে সভাগুলি ডাকা হতে থাকল।” (সিদ্দিক সালিক)

অ্যাকশন কমিটির প্রতিনিধিদের সাথে বৈঠক করে জিন্না তাদের বোঝানোর চেষ্টা করলেন যে, কেবল একটি মাত্র ভাষাই জাতীয় ভাষা হতে পারে, কিন্তু ছাত্ররা তা মেনে নিলেননা।

“জিন্না এবং ছাত্র প্রতিনিধিদের মধ্যে আলোচনায় কোন লাভ হলনা, পরন্তু শেখ মুজিবুর রহমানের অনুগামী এবং সহযোগী ছাত্র দল এবং শা আজিজুর রহমানের নেতৃত্বে থাকা ছাত্র দলের মধ্যেকার বিভাজন রেখা ক্ষীণ হয়ে এল। বাংলা ভাষা আন্দোলনকে গুঁড়িয়ে দিতে এবং এর সমর্থকদের জেলে পুরতে জাতীয় নেতৃত্ব দমন নীতি প্রয়োগ করতে শুরু করল।” (মহম্মদ আব্দুল ওদুদ ভুঁইয়া)

দ্বিতীয় পর্যায়

জানুয়ারি ২৬, ১৯৫২: পাকিস্তান কন্সটিটূয়েন্ট অ্যাসেমব্লির বেসিক প্রিন্সিপ্‌ল কমিটি সুপারিশ করল যে, একমাত্র উর্দূই রাষ্ট্র ভাষা হতে পারে। পল্টন ময়দানে একটি জন সভায় মুখ্য মন্ত্রী নাজিমুদ্দিন ঘোষণা করলেন একমাত্র উর্দূই রাষ্ট্র ভাষা হতে চলেছে। এই দু’টি ঘটনার পরেই পূর্ব পাকিস্তানে দ্বিতীয় দফার ভাষা আন্দোলন শুরু হল।

জানুয়ারি ২৮, ১৯৫২: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি প্রতিবাদ সভায় ছাত্ররা প্রধান মন্ত্রী এবং প্রাদেশিক সরকারের মন্ত্রীদের পশ্চিম পাকিস্তানের তল্পি বাহক আখ্যা দিল।

জানুয়ারি ৩০, ১৯৫২: আওয়ামী লীগের ডাকা একটি গোপন বৈঠকে, যেখানে কম্যুনিস্ট জোট ছাড়াও অন্যান্য সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন, সবাই এক মত হলেন যে, সার্থক ভাবে ভাষা আন্দোলন চালিয়ে যেতে হলে শুধু একা ছাত্ররাই যথেষ্ট নয়। সর্ব স্তরের রাজনৈতিক এবং ছাত্র সমর্থন পেতে ঠিক হল মওলানা ভাসানির নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ এই আন্দোলন চালাবে।

জানুয়ারি ৩১, ১৯৫২: ঢাকায় একটি সর্ব দল বৈঠকে ভাসানি সভাপতিত্ব করলেন। আব্দুল হাশিম এবং হামিদুল হক চৌধুরির মত বিশিষ্ট নেতারা এই সভায় উপস্থিত ছিলেন। কাজি গোলাম মাহ্‌বুবকে আহ্বায়ক করে এবং মওলানা ভাসানিকে চেয়ারম্যান করে একটি একটি সম্প্রসারিত ‘অল পার্টি কমিটি অফ অ্যাকশন ‘ গঠন করা হল। কমিটিতে আওয়ামী লীগ, স্টুডেন্ট লীগ, ইয়ুথ লীগ, খিলাফতে০রাব্বানি পার্টি এবং ঢাকা ইউনিভার্সিটি স্টেট ল্যাংগোয়েজ কমিটি অফ অ্যাকশন থেকে দু’জন করে প্রতিনিধি নেওয়া হল।

ফেব্রুয়ারি ৩, ১৯৫২: পূর্ব বঙ্গ জুড়ে ‘ভাষা ও সাংস্কৃতিক আধিপত্যের’ প্রতিবাদে কমিটি অফ অ্যাকশন ঢাকায় একটি প্রতিবাদ সভা ডাকে। আওয়ামী লীগের প্রাদেশিক প্রধান মওলানা ভাসানি সেই সভায় ভাষণ দেন। আবুল হাশিমের পরামর্শক্রমে ঠিক হয় ২১ শে ফেব্রুয়ারি, অর্থাৎ ইস্ট বেঙ্গল অ্যাসেমব্লির বাজেট অধিবেশন শুরুর দিন, একটি সাধারন ধর্মঘট ডাকা হবে।

ফেব্রুয়ারি ২০, ১৯৫২: সন্ধ্যা ছ’টার সময় ঢাকা শহরে মিছিল এবং মিটিঙের উপর ১৪৪ ধারা অনুযায়ী নিষেধাজ্ঞা জারী হল। এই আদেশ ছাত্রদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের জন্ম দিল।

ফেব্রুয়ারি ২১, ১৯৫২: সাধারন ধর্মঘট পালিত হল।

দুপুর-ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে একটি সভায় ছাত্ররা সিদ্ধান্ত নেয় নুরুল আমিন সরকারের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করা হবে, এবং সেই মত প্রাদেশিক অ্যাসেমব্লির সামনে বিক্ষোভ দেখাতে বেশ কিছু মিছিল বের করা হয়। পুলিশ প্রথমে ছাত্রদের দিকে কাঁদানে গ্যাসের শেল ছোঁড়ে এবং ছাত্ররাও পাথর ছুঁড়ে তার জবাব দেয়। তারপরের সংঘর্ষ কাছাকাছি থাকা মেডিক্যাল এবং এঞ্জিনীয়ারিং কলেজের ক্যাম্পাসেও ছড়িয়ে পড়ে।

বিকেল ৪টা

মেডিক্যাল কলেজের হোস্টেলের সামনে পুলিশ গুলি চালায়। এতে পাঁচ জন-মহম্মদসালাউদ্দিন, আব্দুল জব্বর, আবুল বরকত, রফিকুদ্দিন আহ্‌মেদ এবং আব্দুস সালাম নিহত হন। এঁদের মধ্যে প্রথম তিন জন ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র।

“সারা শহরে দাবানলের মত এই হত্যার খবর ছড়িয়ে পড়ল, এবং হাজারে হাজারে মানুষ মেডিক্যাল কলেজ চত্বরের দিকে ছুটে এলে।” (তালুকদার মণিরুজ্জামান)।

অ্যাসেমব্লির ভিতরে ছ’জন বিরোধী সদস্য সভা মুলতুবি রাখা এবং গুলি চালনার ঘটনার তদন্ত দাবী করলেন। কিন্তু মুখ্য মন্ত্রী নুরুল আমিন নির্দিষ্ট কর্ম সূচী অনুযায়ী সভা চালিয়ে যেতে বলেন। প্রতিবাদে, সমস্ত বিরোধী সদস্যরা ওয়াক আউট করেন।

ফেব্রুয়ারি ২২, ১৯৫২ : হাজার হাজার মানুষ পুলিশের গুলিতে নিহতদের জন্য প্রার্থনা করতে জড় হলেন বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিক্যাল কলেজ এবং এঞ্জিনীয়ারিং কলেজ প্রাঙ্গণে। প্রার্থনার পর তাঁরা যখন মিছিল করে যাচ্ছেন, তখন পুলিশ গুলি চালায়। ক্রুদ্ধ মানুষ একটি সরকার পন্থী খবরের কাগজের অফিসে অগ্নি সংযোগ করেছিলেন, পুলিশ তাদের উপরেও গুলি চালায়। এই ঘটনায় চার জনের মৃত্যু হয়। পরিস্থিতি আরো খারাপের দিকে যেতে সরকার সামাল দেবার জন্য মিলিটারি ডাকে।

চাপের মুখে নতি স্বীকার করে মুখ্য মন্ত্রী নুরুল আমিন বাংলাকে অন্যতম রাষ্ট্র ভাষা করা উচিত-এই মর্মে কন্সটিটূয়েন্ট অ্যাসেমব্লিতে একটি মোশন আনেন। মোশনটি সর্ব সম্মতিক্রমে গৃহীত হয়। “এই প্রথম অনেক মুসলমান সদস্য হিন্দু কংগ্রেস বিরোধীদের আনা সংশোধনীগুলির পক্ষে ভোট দেন। মুসলিম লীগে বিভাজন সম্পূর্ন হল, যখন তাদের কিছু সদস্য নিজেদের জন্য স্পিকারের কাছে পৃথক ব্লকের জন্য দাবী জানাল। আওয়ামী (মুসলিম) লীগ বিরোধী দলের তকমা পেল (হাসান জাহির)।

ফেব্রুয়ারি ২৩, ১৯৫২: একটি সম্পূর্ন ও স্বতঃস্ফুর্ত সাধারন ধর্মঘট পালিত হয়। আবার সরকার দমন নীতি প্রয়োগ করে। এর প্রতিবাদে এ পি সি এ ফেব্রুয়ারির ২৫ তারিখ আবার একটি সাধারন ধর্মঘট পালন করার সিদ্ধান্ত নেয়। মেডিক্যাল কলেজের ছাত্ররা পুলিশের গুলিতে মৃতদের ‘চরম আত্মোত্‌সর্গ’ স্মরণে বরকতকে যেখানে গুলি করা হয়, সেই যায়গায় রাতারাতি ‘শহিদ মিনার’ গড়ে ফেলল। পরে বাঙ্গালিদের  কাছে এই শহিদ মিনার হয়ে ওঠে ঐক্যের প্রতীক।

ফেব্রুয়ারি ২৪, ১৯৫২: ঢাকায় ৪৮ ঘন্টার মধ্যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে সরকার পুলিশ আর মিলিটারিকে ঢালাও ক্ষমতা দেয়। “এই ৪৮ ঘন্টার মধ্যে পুলিশ ভাষা আন্দোলনের সাথে যূক্ত     প্রায় সব ছাত্র এবং রাজনৈতিক নেতাদের গ্রেপ্তার করে।” (তালুকদার মনিরুজ্জামান)।

ফেব্রুয়ারি ২৫, ১৯৫২: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অনির্দিষ্ট কালের জন্য বন্ধ ঘোষিত হল। “দমন পীড়নের কারনে আন্দোলন ঢাকায় কিছুটা ঝিমিয়ে যায়, কিন্তু ব্যাপক ভাবে ছড়িয়ে পড়ে জেলাগুলিতে। পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্র ভাষা হিসেবে বাংলার স্বীকৃতির দাবী ছাড়াও ছাত্ররা এবার নুরুল আমিন মন্ত্রী সভার পদত্যাগের দাবী করতে থাকল। নুরুল আমিন দাবী করলেন যে, সরকার তার দমন নীতির সাহায্যে প্রদেশকে বিপর্যয় এবং অরাজকতার হাত থেকে বাঁচিয়েছে। কিন্তু ছাত্ররা দাবী করলেন তাঁরা তাঁদের রক্ত দিয়ে আন্দোলনের সাফল্য এনেছেন। ফিরে দেখলে এটা পরিষ্কার যে, এই আন্দোলন পূর্ব বঙ্গে ধর্ম নিরপেক্ষ-ভাষা-কেন্দ্রিক বাঙ্গালি জাতীয়তাবাদের বীজ বুনেছিল। এর তাৎক্ষণিক অভিঘাতে ১৯৫৪ সালের নির্বাচনে বিরোধী ইউনাইটেড ফ্রন্টের হাতে মুসলিম লীগের শোচনীয় পরাজয় ঘটল, যার ভিত্তি ছিল পূর্ব বঙ্গের সাংস্কৃতিক,রাজনৈতিক এবং আর্থিক স্বাশনের আকাংক্ষা।” (তালুকদার মনিরুজ্জামান)।

“ভাষা আন্দোলন পাকিস্তানের রাজনীতিতে এক নতুন মাত্রা যোগ করল। এই আন্দোলন নতুন প্রজন্মের বাঙ্গালিদের মনে গভীর দাগ কেটে তাদের ভিতরে বাঙ্গালি জাতীয়তাবোধ জাগিয়ে তুলল। ভাষা আন্দোলন যে বাঙ্গালি জাতীয়তাবোধের জন্ম দিয়েছিল তা বাঙ্গালির হৃদয়ে চিরকাল জেগে থাকবে। খুব সামান্য সংখ্যক মানুষ হয়তো তখন বুঝতে পেরেছিলেন ্যে, ১৯৫২ সালের রক্তপাতের সাথে সাথেই নত জাতক রাষ্ট্র পাকিস্তান রক্তক্ষরণের মধ্যে দিয়ে মৃত্যুর দিন গোনা শুরু করল।” (রফিকুল ইসলাম)

পরিণতি মে ৭, ১৯৫৪:

পাকিস্তান সরকার বাংলাকে একটি জাতীয় ভাষা হিসেবে স্বীকৃতি জানায়।

ফেব্রুয়ারি ২৬, ১৯৫৬:

বাংলাকে একটি জাতীয় ভাষা হিসেবে স্বীকার করে কন্সটিটুয়েন্ট অ্যাসেমব্লি পাকিস্তানের প্রথম সংবিধান পাশ করে।

মার্চ ২৩, ১৯৫৬:

পাকিস্তানের প্রথম সংবিধান লাগু হয়।

মার্চ ২৬, ১৯৭১:

একটি সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশের আত্মপ্রকাশ ।

Facebook Comments