বাবাদের জন্য যে চলচ্চিত্র কাঁদালো সবাইকে


নিজের ছেঁড়া স্যান্ডেলটা বদলে নেওয়ার সময় হয়েছে। তাই শহরতলির একটি জুতার দোকানে এক ব্যক্তি গেছেন জুতা কিনতে। একটা স্যান্ডেল মনমতো পেয়েও গেলেন। ঠিক সে সময় চোখ পড়ল একজোড়া কেডসের ওপর। হঠাৎ মনে পড়ল, আরে তাঁর ছেলে তো এই কেডসটাই কিনতে চেয়েছিল। ব্যস সেটিও দরদাম করতে শুরু করলেন তিনি। দাম মেটানোর সময় দেখলেন পকেটে কেবল কেডস জোড়ার দামই আছে। তাই শুধু ছেলের কেডসটাই কিনে নিলেন তিনি। আর নিজের ছেঁড়া স্যান্ডেলটা মুচিকে দিয়ে সেলাই-পলিশ করে নেওয়ার পরিকল্পনা করলেন।

একটু মিলিয়ে দেখুন তো পাঠক। গল্পটা পরিচিত মনে হয় কি না? মনে হয় কি না যে, আরে এটা তো আমার জীবনের গল্প! আমার বাবার গল্প!

যখনই নিঃস্বার্থ আত্মত্যাগের প্রসঙ্গ আসে, তখন উদাহরণ হিসেবে মায়েদের কথা চলে আসে সবার আগে। গোটা পৃথিবীতেই এমনটা হয়ে আসছে যুগের পর যুগ ধরে। কিন্তু সেই অনুযায়ী বাবাদের আত্মত্যাগ বা ভালোবাসার কথা প্রকাশ হয় না সহজে।

তবে বাবারা ভালোবাসেন না? প্রিয় সন্তানের জন্য আত্মত্যাগ করেন না? সন্তানের মুখের দিকে তাকিয়ে নিজের শখ-সুখ বিসর্জন দেন না? না কি বাবাদের এই আত্মত্যাগকে আমরা টেকেন ফর গ্রান্টেড বা নিশ্চিতভাবে ধরে নিচ্ছি?

বাবাদের এসব অবদানের কথাই যেন চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে এবারের ঈদুল ফিতর উপলক্ষে নির্মিত স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘বাবাদের ঈদ’। যে গল্পটা শুরুতে বলেছি সেটিই চিত্রিত হয়েছে এখানে। অলিম্পিক এনার্জি প্লাস নিবেদিত এই ছবিটি নির্মাণ করেছেন রিসালাত শামীম অমি।

গত সোমবার ইউটিউবে ছবিটি মুক্তি দেওয়া হয়েছে। অবশ্য এর আগের দিন অর্থাৎ রোববার অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের অফিশিয়াল ফেসবুক পেজে ছবিটি আপলোড করা হয়। আজ বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত ফেসবুকে ছবিটি দেখেছেন ৩০ লাখের বেশি মানুষ। ফেসবুকে শেয়ার হয়েছে প্রায় ৭৬ হাজারবার। আর লাইকসহ বিভিন্ন রিঅ্যাকশন দিয়েছেন এক লাখ ১২ হাজারের বেশি ফেসবুক ব্যবহারকারী।

কোন ভাবনা থেকে এই ছবি তৈরি করেছেন, জানতে চাইলে নির্মাতা অমি এনটিভি অনলাইনকে বলেন, “ইচ্ছে ছিল ঈদে ব্যতিক্রম কিছু নির্মাণ করব। আমার সঙ্গে আমার বাবার ছোটবেলার ঈদের কথা প্রায়ই মনে পড়ে। এরপর একদিন হঠাৎ করে ‘বাবাদের ঈদ’ গল্পের চিত্রনাট্য লিখলাম।”

Facebook Comments