বাংলাদেশ কাথলিক স্টুডেন্টস্ মুভমেন্ট’র ২২তম জাতীয় ছাত্র সম্মেলন শুরু


“বিপন্ন পরিবেশ: সুন্দরের প্রত্যাশায় পরিবেশ সুরক্ষায় যুবাদের একাত্মতা” এই স্লোগানকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ কাথলিক স্টুডেন্টস্ মুভমেন্ট (বিসিএসএম)-এর তিনদিনব্যাপী ২২তম জাতীয় ছাত্র সম্মেলন আয়োজিত হচ্ছে ।

মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার লক্ষীপুরে এই সম্মেলন আয়োজন হচ্ছে।

এবারের বিসিএসএম জাতীয় ছাত্র সম্মেলনে সারা বাংলাদেশ থেকে ১৮০ জন কলেজ বিশ^বিদ্যালয় পড়য়া শিক্ষার্থী সম্মেলনে অংশ নিয়েছে।

জাতীয় ছাত্র সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ খ্রিষ্টান ধর্মালম্বীদের প্রধান ধর্মগুরু কার্ডিনাল প্যাট্রিক ডি রোজারিও, সিএসসি।

তিনি বলেন, ‘যে পৃথিবীতে আমাদের নিবাস, যে এলাকায় আমাদের অবস্থান, যে বসতবাড়ীতে আমরা বাস করি সেখানকার প্রকৃতি কত অপব্যবহার ও কত দুর্ব্যবহারে আক্রান্ত। আমাদের আশেপাশের প্রকৃতি আজ চিৎকার করে বিলাপ করছে’।

তিনি বলেন, ‘প্রকৃতির মধ্যে দেখি বায়ু দূষণ, বন-বৃক্ষ নিধনে বাতাসে কার্বন-ডাই-অক্সাইড, ত্রুটিপূর্ণ ও মাত্রাতিরিক্ত যানবাহন এবং নির্গত হচ্ছে কালো ধোঁয়া। পানি দূষণের ফলে পানীয় জলের অভাব, পানির যতটাই দুর্গন্ধ ততটাই বিবর্ণ। অন্যদিকে গৃহস্থালী বর্জ্য, শিল্প বর্জ্য, মাত্রাতিরিক্ত সার ব্যবহার, জলাবদ্ধতা, প্রয়োজনমত পয়ঃনিষ্কাশন ও বর্জ্য পরিশোধন ব্যবস্থাপনার অভাবসহ নানাবিধ কারণে প্রতিনিয়ত পানি দূষিত হচ্ছে। খাল-বিল-ডোবা-নালা ও জলাশয় দিন দিন নিশ্চিহ্ন হয়ে যাচ্ছে। ফলে পানি-ধারণের ক্ষমতা ধরণী হারিয়ে ফেলছে। প্রকৃতিতে জীব-বৈচিত্র হ্রাস পাচ্ছে; ঘরে-ঘরে, কলকারখানা-প্রতিষ্ঠানে, হাটে-মাঠে-বাজারে, গ্রামে-শহরে নানা উৎসব-অনুষ্ঠানে শব্দ দূষণ; অপরিকল্পিত নগরায়ন, আবাসিক এলাকায় শিল্পের প্রবেশ, সুন্দর বসতবাড়ী বস্তিতে পরিণতি; ঝুঁকিপূর্ণ অভিবাসন, ইত্যাদির মধ্যে পরিলক্ষিত হচ্ছে পরিবেশের বিপর্যয়। তাই প্রকৃতি কাঁদছে, সজোরে আর্তনাদ করছে’।

ইন্টারন্যাশনাল মুভমেন্ট অব কাথলিক স্টুডেন্টস এশিয়া প্যাসিফিক’র সমন্বয়কারী রাভি তিশেরা তাঁর বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বলেন, ‘এখানে আসতে পেরে নিজেকে খুব আশীর্বাদিত মনে করছি। আইসিএসএম’র দায়িত্বে থাকায় তাঁকে বিভিন্ন জায়গায় যেতে হয় বাংলাদেশে তাঁর জন্য এটি একটি নতুন অভিজ্ঞতা উল্লেখ্য করে বলেন, এখানে যুবাদের দেখে আমি অনুপ্রেরিত’।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সিলেট ধর্মপ্রদেশের বিশপ বিজয় এন ডি’ক্রুজ বলেন, ‘আমি অত্যন্ত আনন্দিত যে বিসিএসএম’র সৌজন্যে আজ লক্ষীপুর মিশনে আমরা মহামান্য কার্ডিনাল মহোদয়কে আমাদের মাঝে প্রথম বারের মতো পেয়েছি।’

কার্ডিনালকে রোহিঙ্গাদের পাশে দাড়ানোর জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আপনি রোহিঙ্গাদের পাশে দাড়িয়েছেন, তাঁদের জন্য প্রার্থনা করেছেন, আমাদের সবার উচিৎ মানবতার ও রোহিঙ্গাদের পাশে দাড়ানো এবং তাদের সাহায্য করা।

সভাপতির বক্তব্যে উইলিয়াম নকরেক বলেন, ‘বাংলাদেশের প্রকৃতির অন্যতম উপাদান হচ্ছে বন ও বন্যপ্রাণী। বিভিন্ন অঞ্চলের বন ও বন্যপ্রাণী মিলে গড়ে উঠেছে নানা ধরনের প্রতিবেশ ব্যবস্থা। বন ও বন্যপ্রাণী ক্ষতিগ্রস্থ হলে পরিবেশ-প্রতিবেশ ব্যবস্থার ওপর নেমে আসে বিপর্যয়। প্রকৃতিতে এদের ভূমিকা সম্পর্কে সঠিক জ্ঞানের অভাবে প্রতিনিয়ত বন ও বন্যপ্রাণী ধ্বংস হচ্ছে। বন ধ্বংস, অবৈধ বন্যপ্রাণী শিকার, দারিদ্র্যতা, অপরিকল্পিত নগরায়ণ, শিল্প কারখানার দূষণে বাংলাদেশের পরিবেশ আজ বিপর্যস্ত। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব। প্রাকৃতিক ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস আর দাবদাহে যতটা পরিবেশের ক্ষতি হয় তার চেয়ে শতগুণ বেশি হয় মানবসৃষ্ট কারণে। প্রকৃতির ওপর দায়বোধ, সচেতনতা আর সর্বগ্রাসী মুনাফার লোভে মানুষ নিজের জীবনকে বিষিয়ে তুলছে পরিবেশ ধ্বংস করে। শুধু বন ধ্বংস ছাড়াও পরিবেশ দূষণের জন্য দায়ী হচ্ছে অপরিকল্পিত নগরায়ণ, বর্জ্য অব্যবস্থাপনা, বায়ুদূষণ, শব্দদূষণ, পুকুর, খাল ও নদী ভরাটে বিপর্যস্ত পরিবেশ। ফলে জনস্বাস্থ্য হুমকির মুখে।

তিনি পরিবেশ সুরক্ষায় সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘পরিবেশ রক্ষায় তথা পৃথিবীর সুরক্ষায় প্রয়োজন সবার সচেতন উদ্যোগের। যার যতটুকু সাধ্য ততটুুকু দিয়েই চেষ্টা করা দরকার পৃথিবীটাকে বাসযোগ্য রাখার। এজন্য যুবাদেরই অগ্রণী ভূমিকা রাখতে হবে। এগিয়ে আসতে হবে পৃথিবীকে সুরক্ষা করার জন্য আগামী প্রজন্মের জন্য।’

এ ছাড়াও উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন, সিলেট ধর্মপ্রদেশের ধর্মপাল বিশপ বিজয় এন ডি’ক্রুজ, ওএমআই, এপিসকপাল যুব কমিশনের চেয়ারম্যান বিশপ সুব্রত লরেন্স হাওলাদার, সিএসসি, লক্ষীপুর ধর্মপল্লীর পাল পুরোহিত ফাদার রবি রবার্ট রোজারিও, ওএমআই, সিলেট ধর্মপ্রদেশের যুব সমন্বয়কারী ফাদার ব্রুসলি লামিন ও কারিতাস বাংলাদেশের সিলেট অঞ্চলের পরিচালক যোয়াকিম গমেজ প্রমুখ।

Facebook Comments