পবিত্র জুমাতুল বিদা আজ


আজ পবিত্র জুমাতুল বিদা বা মাহে রমজানের শেষ শুক্রবার। এ দিনটি আল-কুদস দিবস হিসেবেও পালিত হয়। মূলত জুমাতুল বিদার মধ্য দিয়ে মাহে রমজানকে বিদায় সম্ভাষণ জানানো হয়। রমজানের বিদায়ী শুক্রবার মুসলমানদের জন্য অতি মূল্যবান। আজ জুমাতুল বিদায় জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে দেশ ও জাতির কল্যাণ এবং মুসলিম উম্মাহর ঐক্য ও শান্তি কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হবে। দেশের সব মসজিদে জুমাতুল বিদার

পবিত্র দিনে মুসলি্লদের ব্যাপক সমাগম ঘটবে।

এদিকে পবিত্র রমজানের ২৭তম রোজা আজ। মুসলিম বিশ্ব রমজানের শেষ দিনগুলোতে বিশেষ ইবাদত-বন্দেগিতে রত থেকে অতিবাহিত করছে। শেষ দশকের বেজোড় রাত্রিতে কদরের রাতের কথা বলা হয়েছে, যে রাতে মুমিন বান্দারা এক মহান আশীর্বাদ লাভ করেন। প্রসিদ্ধ একটি হাদিস দ্বারা এ কথা সাব্যস্ত যে মহানবী (সা.) বলেছেন, ‘কদরের রাতে যে ব্যক্তি ঐকান্তিক বিশ্বাসের সঙ্গে আল্লাহর পুরস্কার লাভের আশা করে, তার অতীতের সব গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হয়’ (বুখারি শরিফ)। উপরোক্ত হাদিসের আলোকে প্রত্যেক মুমিন নর-নারীর এটা দায়িত্ব, রমজানের অবশিষ্ট দিনগুলোতে সে তার ইবাদত বাড়িয়ে দেবে এবং ঐকান্তিকভাবে এই দোয়া করবে যে তারা যেন আল্লাহর রহমতে তাদের অতীতের সব গুনাহ মাফ পেয়ে যায়। এক স্থানে মহানবী (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি সারা রমজান মাসের সব নামাজ বা জামাত আদায় করে, সে ব্যক্তি লাইলাতুল কদরের এক বৃহদাংশ সংগ্রহ করে।’ এখন প্রশ্ন হচ্ছে, আমরা যে মাসব্যাপী রোজা রাখলাম, ইবাদত-বন্দেগি করলাম, হাজার হাজার মানুষের মধ্যে জাকাতের কাপড় বিতরণ করলাম, তা কি লোক দেখানো ছিল, না কেবল আল্লাহর জন্যই ছিল? যদি তা লোক দেখানো হয়ে থাকে, তাহলে রমজানের আমল আমাদের কোনো কাজে আসবে না; বরং ক্ষতির কারণ হবে। তবে রমজান এমন এক ইবাদত, যা লোক দেখানো হয় না। কেউ চাইলে গোপনে কিছু খেতে পারে; কিন্তু রোজাদার তা করে না। কেবল আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য না খেয়ে থাকে। রমজানের বাইরে অন্যান্য ইবাদতে লোক দেখানোর বিষয় থাকে।

পবিত্র কোরআনে লোক দেখানো আমলকে আল্লাহতায়ালা মুনাফিকের তুলনা করেছেন। যেভাবে বলা হয়েছে, ‘মুনাফিকরা আল্লাহকে ধোঁকা দিতে চায়; কিন্তু তিনি তাদের নিজেদের ধোঁকায় ফেলে দেবেন। আর তারা যখন নামাজের উদ্দেশ্যে দাঁড়ায়, তারা আলস্যভরে দাঁড়ায়। তারা লোক দেখানো কাজ করে। আর তারা আল্লাহকে খুব কমই স্মরণ করে থাকে’ (সূরা আন-নিসা, আয়াত :১৪২)। এ ছাড়া রাসূল (সা.)-এর যুগে লোক দেখানো আমল বা রিয়াকে ছোট শিরকে গণ্য করা হতো (তাবারানি, হাদিস নম্বর ৭১৬০)। অপর এক হাদিসে এভাবে বর্ণিত হয়েছে যে, হজরত মাহমুদ ইবন লুবাইদ বলেন, মহানবী (সা.) বের হয়ে এলেন এবং ঘোষণা করলেন, ‘হে জনগণ, গোপন শিরক সম্বন্ধে সাবধান!’ লোকেরা জিজ্ঞাসা করল, ‘ইয়া রাসূলুল্লাহ (সা.), গোপন শিরক কী?’ তিনি বললেন, ‘যখন কেউ সালাতে দাঁড়ায় এবং লোকে তাকিয়ে দেখছে জেনে তার সালাত সুন্দরভাবে আদায়ের চেষ্টা করে, এটাই গোপন শিরক’ (ইবনু মাজাহ, হাদিস ৪২৭৯)। আজ আমাদের মধ্যে অনেকেই এমন আছেন, যারা লোক দেখানো আমলকেই যেন বেশি পছন্দ করেন।

Facebook Comments