তৌফা-তহুরার শরীর আলাদা করার অস্ত্রোপচার আজ


জোড়া শিশু তৌফা ও তহুরার অস্ত্রোপচার করা হবে আজ মঙ্গলবার (০১ আগস্ট)। ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে সকাল ৮টায় শুরু হবে তাদের আলাদা করার জটিল এ শল্য চিকিৎসা। এতে সময় লাগতে পারে ৬ থেকে ৭ ঘণ্টা।

চিকিৎসকরা বলছেন, কোনও ধরনের সমস্যা ছাড়াই শিশু দুটিকে আলাদা করা যাবে বলে তারা শতভাগ আশাবাদী। তবে কোনও সমস্যা হলেও তা মোকাবিলায় তাদের প্রস্তুতি রয়েছে।

সোমবার (৩১ জুলাই) বেলা ১১টার দিকে ঢামেকে জোড়া শিশু দুটির বিষয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন ঢামেকের চিকিৎসকরা। এ সময় ঢামেকের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মিজানুর রহমান বলেন,‘এটি একটি বড় অপারেশন। আমরা সর্বাত্মক চেষ্টা করবো যাতে তাদের সফলভাবে আলাদা করা যায়। পুরো ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল এই অস্ত্রোপচারে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সহযোগিতায় থাকবে।

শিশু দুটির আলাদাকরণের প্রক্রিয়ায় কিছু জটিলতা রয়েছে বলে জানিয়েছেন এ লক্ষ্যে গঠিত মেডিক্যাল বোর্ডের প্রধান শিশু সার্জারি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক সাহনূর ইসলাম। তিনি বলেন,‘জোড়া শিশু দুটির অস্ত্রোপচারে কিছু জটিলতাও রয়েছে। অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তাদের জোড়া লাগানো স্পাইনাল কর্ড (মেরুদণ্ড) আলাদা করা হবে। যদি এটি লিকেজ না হয়, তাহলে সমস্যা হবে না। এছাড়া, অস্ত্রোপচারের পর তাদের প্রস্রাব-পায়খানা ও হাত-পা নড়াচড়া বন্ধ হয়ে যাবে কিনা তা নিয়ে কিছুটা শঙ্কা রয়েছে।’

এসব বিষয়ে শিশু দুটির মা-বাবাকে জানানো হয়েছে এবং জটিলতা মোকাবিলায় চিকিৎসকরা প্রস্তুত রয়েছেন বলেও তাদের জানিয়েছেন। শিশু দুটির মা-বাবাও সন্তানদের সুস্থ-সুন্দর জীবনের স্বার্থে ঝুঁকি নিতেও রাজি আছেন।

সংবাদ সম্মেলনে ঢামেক হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের সমন্বয়কারী ডা. সামন্ত লাল সেন বলেন,‘এই অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে বাংলাদেশের চিকিৎসকরা যে অনেক কিছু পারেন- সেটা আবারও প্রমাণিত হবে।’ এ সময় মেডিক্যাল বোর্ডের সদস্যসহ আরও  অনেক চিকিৎসক উপস্থিত ছিলেন।

গাইবান্ধার জোড়া লাগা শিশু তৌফা ও তহুরাকে গত ২১ এপ্রিল দ্বিতীয়বারের মতো ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এর আগে গত ৮ অক্টোবর তাদের এখানে প্রথমবারের মতো ভর্তি করা হয়। তখন তাদের একটি সফল অপারেশনও করা হয়েছিল।

গত ২৯ সেপ্টেম্বর গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার দহবন্দ ইউনিয়নের ঝিনিয়া গ্রামের রাজু মিয়ার স্ত্রী সাহিদা বেগম নিজ বাড়িতে জোড়া কন্যা সন্তানের জন্ম দেন। কোমরের কাছে জোড়া লাগানো শিশু দুটির সব অঙ্গপ্রত্যঙ্গই আলাদা। শুধু প্রস্রাব-পায়খানার রাস্তা একটি। প্রথমবার ঢামেকে ভর্তির পর অপারেশনের মাধ্যমে তাদের পায়ুপথ আলাদা করা হয়। এরপর তাদের ফের ভর্তির তারিখ নির্দিষ্ট করে ছুটি দেওয়া হয়।

Facebook Comments