তাঁদের নেই কোন ঈদ আনন্দ


নিজস্ব প্রতিবেদক: শনিবার বিকেল ৪টা। রাজধানীর কাকরাইল মোড় থেকে বেইলি রোডের রাস্তা প্রায় জনমানব ও যানবাহনশূন্য। মাঝে মাঝে তীব্র গতিতে দু-চারটা গাড়ি ছুটে যেতে দেখা যায়। মাত্র দুদিন আগেও এ রাস্তায় প্রচণ্ড যানজটে মানুষের নাভিশ্বাস উঠেছে। ঈদের ছুটিতে নাড়ির টানে লাখ লাখ মানুষ শহর ছেড়ে যাওয়ায় যান্ত্রিক নগরখ্যাত ঢাকা অনেকটাই ফাঁকা।

বেইলি রোডের রাস্তার ফুটপাতের পশ্চিম পাশে তাকাতেই দেখা গেল এক মধ্যবয়সী লোক, ২০-২৫ বছর বয়সী এক তরুণী ও আনুমানিক ৭-৮ বছরের ছেলে বেঘোরে ঘুমাচ্ছে। ওদের তিনজনের পাশে আনুমানিক দু-তিন বছরের ছোট একটি ছেলে বসে এদিক ওদিক তাকাচ্ছে। ছেলেটির গায়ে কোনো কাপড় নেই।

কেমন করে ওদের ঈদ কাটছে জানতে তরুণীকে ডাকতেই ঢুলু ঢুলু দুচোখে তরুণী ঘুম থেকে উঠল। তার চোখে মুখে বিরক্তির ছাপ। এদের সঙ্গে আপনার কি সম্পর্ক বলতেই এই দুইডা পোলা আর ওইডা জামাই বলে আবার শুয়ে পড়ল তরুণী। ছেলেদের নাম কি জানতে চাইলে সরাসরি জবাব আমি জানি না, পোলার বাপে জানে।

হাতে ৫০ টাকার একটি নোট এগিয়ে দিতেই হাসিমুখে এগিয়ে এসে টাকা নিয়ে তার হাতে দিতেই চিলের মতো ছোঁ মেরে টাকা নিয়ে ভো দৌড় ছোট ছেলেটির। মা পিছু পিছু দৌড়াতেই শিশুটি ৫০ টাকার নোটটি দুভাগ করে ছিঁড়ে ফেলল। তরুণীর চিৎকারে মধ্যবয়সী লোকটি ঘুম থেকে জেগে উঠতেই তরুণী কাঁদতে কাঁদতে নোট ছেঁড়ার কাহিনি বলে, এখনই টাকা জোড়া দিয়ে না দিলে শিশুটিকে জানে মেরে ফেলবে বলে বার বার বলতে লাগল। তখন মধ্যবয়সী ব্যক্তিটি খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে হাঁটছিল।

এ প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপকালে আবদুল মজিদ নামের ওই লোকটি জানান, ছেলের মা মানসিকভাবে অসুস্থ। সেও প্রায় পঙ্গু, ঠিকমতো চলতে পারে না। ফুটপাতে শুয়ে বসে মানুষের সাহায্যে খেয়ে না খেয়ে দিন কাটে। এবারের ঈদে কি কিছু কিনেছেন বলতেই বিস্ময় ভরা দৃষ্টিতে তাকিয়ে বললেন, ‘আমাগো তো তিন বেলা খাওয়ার ব্যবস্থাই নাই, আবার ঈদ। ঈদের আনন্দ আমাগো লাইগ্যা না বলে আবার ফুটপাতে ফিরে যায় মজিদ।’

 

Facebook Comments