প্রতীকী ছবি

ঘরমুখো চিকুনগুনিয়া রোগীদের সতর্ক থাকার পরামর্শ


আতাউর রহমান কাবুল: রাজধানীর ঘরে ঘরে এখন চিকুনগুনিয়ার প্রকোপ। এডিস অ্যালবোপিকটাস ও এডিস ইজিপ্টি-এই দুই ধরনের মশার কামড়ে সাধারণত চিকুনগুনিয়া হয়।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের গবেষণা বলছে, রাজধানী বা শহরাঞ্চলে মূলত এডিস ইজিপ্টি বেশি থাকে, আর গ্রামে এডিস অ্যালবোপিকটাস। আশঙ্কা করা হচ্ছে, চিকুনগুনিয়ায় আক্রান্ত যারা ঈদে বাড়ি যাচ্ছে, তাদের মাধ্যমে এ রোগ ঢাকার বাইরেও ছড়াতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চিকুনগুনিয়া ট্রান্সমিটেড ডিজিস। আর গ্রামেও এডিস মশা আছে। তাই সে আশঙ্কা একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যায় না। এ জন্য নিতে হবে বিশেষ সতর্কতা।

জাতীয় রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) পরিচালক অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সাবরিনা ফ্লোরা কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘মানুষ থেকে মশা ও মশা থেকে মানুষে চিকুনগুনিয়া ছড়ায়। যেখান থেকে জীবাণু ছড়ায় সেটাকে বলে সোর্স অব রিজার্ভার। বের হওয়ার পথকে বলে পোর্ট অব এক্সিট। চিকুনগুনিয়ার ক্ষেত্রে পোর্ট অব রিজার্ভার হলো আক্রান্ত মানুষ। আর পোর্ট অব এক্সিট হলো মশার কামড়। জ্বরের লক্ষণ দেখেই বোঝা যাবে সেটা চিকুনগুনিয়া কি না। সে রকম মনে হলে চিকিত্সা নিতে হবে। তবে যারা ঢাকা থেকে চিকুনগুনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে গ্রামে যাচ্ছে, তাদের মাধ্যমে অন্যদের আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যায় না। মশার কামড় থেকে বাঁচতে তাই বিশেষ সতর্কতা হিসেবে আলাদা মশারি ব্যবহার করা উচিত। ’

অধ্যাপক ফ্লোরা বলেন, ‘যে কয়েক দিন জ্বর থাকবে সে সময়ের সপ্তাহখানেকের মধ্যে যদি মশা না কামড়ায়, সে ক্ষেত্রে অন্যদের মধ্যে চিকুনগুনিয়া ছড়ানোর তেমন সম্ভাবনা নেই। আবার এডিস মশা না কামড়িয়ে যদি কিউলেক্স বা অন্য কোনো মশা কামড়ায় তাহলেও চিকুনগুনিয়া হবে না। ’

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিসিন ইউনিটের ডিন অধ্যাপক ডা. এ বি এম আবদুল্লাহ বলেন, ‘চিকুনগুনিয়ায় আক্রান্ত অবস্থায় স্বজনরা বাড়ি ফিরলে জেলা শহর বা থানা সদরে যারা থাকে তাদের একটু বেশি সতর্ক থাকতে হবে। কেননা শহরাঞ্চলে বা দালানকোঠা বেশি এমন এলাকায় এডিস মশা বেশি দেখা যায়। ’ তিনি মশার কামড় থেকে বাঁচতে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দেন।

অধ্যাপক ডা. এ বি এম আবদুল্লাহ বলেন, ‘চিকুনগুনিয়ায় আতঙ্কের কিছু নেই। রোগীকে পূর্ণ বিশ্রামে রাখতে হবে। জ্বর বেশি হলে সাপোজিটরি ব্যবহার আর পানি দিয়ে শরীর স্পঞ্জ (মুছিয়ে) করতে হবে। প্যারাসিটামলজাতীয় ওষুধ ছাড়া অন্য কোনো ব্যথানাশক বা স্টেরয়েড সেবন বা প্রয়োগ করা যাবে না। রোগীকে প্রচুর পরিমাণ পানি, ডাব, শরবত, গ্লুকোজ, স্যালাইন, সু্যপজাতীয় তরলের পাশাপাশি ভিটামিন ই ও ভিটামিন সি-সমৃদ্ধ খাবার বেশি বেশি খেতে হবে। এ রোগে সবুজ শাকসবজি, কলা ও আপেল বেশ উপকারী। তেল-মসলাযুক্ত খাবার, ফাস্ট ফুড ইত্যাদি না খাওয়াই ভালো। খাবারের তালিকায় পর্যাপ্ত শর্করা যেমন ভাত, জাউ ভাত, দুধ, দই, মাছ বা মুরগির মাংস, স্যুপ ইত্যাদি রাখা উচিত। ছয় মাসের কম বয়সী শিশুরা আক্রান্ত হলে মায়ের দুধ ঠিকমতো খাওয়াতে হবে। মা আক্রান্ত হলেও শিশুদের বুকের দুধ খেতে কোনো বাধা নেই। তিন বা চার দিনের বেশি জ্বর থাকলে চিকিত্সকের পরামর্শমতো রক্ত পরীক্ষা করে প্রয়োজনীয় চিকিত্সা নিতে হবে। একবার চিকুনগুনিয়া হলে ভবিষ্যতে আর হয় না, তবে চারবার পর্যন্ত ডেঙ্গু হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। ’

সূত্র: কালের কন্ঠ।

Facebook Comments