এবার ঈদে পোশাক শিল্পে অসন্তোষ নেই


নিজস্ব প্রতিবেদক: বেতন বোনাসের দাবিতে রাজধানীর অদূরে আশুলিয়া, সাভার ও টঙ্গী এলাকার ৫১৮টি গার্মেন্টস কারখানায় শ্রমিক অসন্তোষের আশঙ্কা করছিল আইন শৃঙ্খলা বাহিনী। আসন্ন ঈদে এসব কারখানার মালিককরা তাদের শ্রমিকদের বেতন ভাতা দিতে পারবে না। ফলে শ্রমিকরা ঈদের আগেই বেতন বোনাসের দাবিতে আন্দোলনে নামবে। এতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হতে ঘটবে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়া বাংলাদেশ শিল্প পুলিশের এমন প্রতিবেদনের পর সময়োপযোগী পদক্ষেপ নেওয়ায় এবার দেশের তৈরি পোশাক শিল্প শান্ত রয়েছে। কোনও অস্থিরতা নেই। কর্মরত শ্রমিকরা এখন পরিবার-পরিজনের সঙ্গে গ্রামের বাড়িতে সময় কাটাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

সংশ্লিষ্টরা আরও জানান, কারখানা মালিকদের জুন মাসে প্রায় তিন মাসের বেতন পরিশোধ করতে হয়েছে। দিতে হয়েছে ঈদের বোনাসও। একইসঙ্গে চলতি জুন মাসের পুরোটা না হলেও আংশিক বেতন দিতে হয়েছে শ্রমিকদের। এর ফলে মালিকদের ওপর এক ধরণের চাপ গেছে। প্রতি বছরের মতো এবারও এই সময়ে সব কারখানায় কাজ কম। তার পরেও অসন্তোষ ঠেকাতে মালিকদের এই চাপ সামলাতে হয়েছে, ম্যানেজ করতে হয়েছে বলে জানিয়েছেন তারা। ঈদের আগে শ্রমিকরা যাতে সুষ্ঠুভাবে বেতন-ভাতা পান, সে লক্ষ্যে সরকার ও বিজিএমইএ মিলে আগেই প্রস্তুতিমূলক ব্যবস্থা নিয়েছে। এর আওতায় ঢাকাকে ১৫টি জোনে ভাগ করে ১৫টি জোনভিত্তিক কমিটি গঠন করা হয়েছে। প্রতি বছরের মতো এবারও কেন্দ্রীয়ভাবে ক্রাইসিস কন্ট্রোল রুম খোলা হয়। এর বাইরে সরকারের গঠিত আঞ্চলিক ক্রাইসিস কমিটি কাজ করেছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে তৈরি পোশাক শিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ’র সাবেক সভাপতি আব্দুস সালাম মুর্শেদী বাংলা ট্রিবিউনকে জানিয়েছেন, ‘গোয়েন্দা প্রতিবেদনে আমরা জানতে পেরেছিলাম কোনও কোনও গার্মেন্টস কারখানায় সমস্যা হতে পারে। এটা জানার পর বিজিএমইএসহ আমরা ওই সব কারখানা মালিকদের সঙ্গে যোগাযোগ করি এবং সমস্যা সমাধানে পদক্ষেপ নেই। এ ক্ষেত্রে বিজিএমইএসহ সরকারও আমাদের সহযোগিতা করেছে। ফলে আমরা শ্রমিকদের সব পাওনা বেতন বোনাস দিয়ে ছুটি দিয়েছি।’

এক প্রশ্নের জবাবে আব্দুস সালাম মুর্শেদী বলেন, ‘এই মুহূর্তে দেশের কোনও তৈরি পোশাক কারখানা খোলা নেই। অধিকাংশ কারখানা বৃহস্পতিবার ছুটি হয়ে গেছে। বাকিগুলোর ছুটি হয়েছে শুক্রবার। যে কারখানা বৃহস্পতিবার ছুটি হয়েছে, সেই সব কারখানা পহেলা জুলাই খুলবে। আর শুক্রবার যেগুলোর ছুটি হয়েছে সেসব কারখানা খুলবে আগামী ২ জুলাই রবিবার।

সালাম মুর্শেদী জানান, গোয়েন্দা প্রতিবেদন আগে পাওয়ায় আমাদের ব্যবস্থা নিতে সহজ হয়েছে। সমস্যা সমাধানে আমরা যথেষ্ট সময় পেয়েছি। এ সব কারণেই এবছর গার্মেন্ট শিল্পে কোনও অস্থিরতা অসন্তোষ হয়নি।

এদিকে, ঈদ উপলক্ষে পোশাক শিল্পের শতভাগ কর্মী উৎসব ভাতা পেয়েছেন বলে জানিয়েছেন তৈরি পোশাক প্রস্তুতকারক ও রফতানিকারকদের সংগঠন বিজিএমইএর সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান। তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘শতভাগ গার্মেন্টস কারখানায় উৎসব ভাতা দেওয়া হয়েছে। ৩১শ’ কারখানায় শতভাগ বেতন বোনাস দেওয়া হয়েছে শ্রমিকরা বেতন ও বোনাস পেয়েছেন।’

সিদ্দিকুর রমহান বলেন, ‘শতভাগ কারখানায় মে মাসের বেতন দেওয়া হয়েছে। শতকরা ৯৮ ভাগ কারখানায় জুন মাসের পুরোটাই অথবা আংশিক বেতন দেওয়া হয়েছে। আর ৮৫ ভাগ কারখানায় বৃহস্পতিবার ঈদের ছুটি দেওয়া হয়েছে। বাকি ১৫ শতাংশ কারখানায় শুক্রবার ছুটি দিয়েছে।’

সিদ্দিকুর রহমান আরও বলেন, ‘ঈদের আগে বেতন ভাতা বিষয়ে সমস্যা হতে পারে এমন কিছু কারখানার তালিকা আমরা বিভিন্ন সংস্থার মাধ্যমে পেয়েছিলাম। বিভিন্ন সংস্থা থেকে প্রাপ্ত এক হাজার ১০০টি প্রতিষ্ঠানকে ক্লোজ মনিটরিং এর আওতায় এনে সমস্যার বুঝে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়। বিজিএমইএ ঢাকা অফিসের মধ্যস্থতায় প্রায় ৩১টি কারখানার সমস্যা সমাধান করে শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধ করা হয়েছে। এই  মুহূর্তে আমাদের হাতে বেতন ভাতা পরিশোধ বিষয়ে সমাধান হয়নি এরকম কোনও কারখানাও নেই।’

এদিকে, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানায়, প্রতিবেদন পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট এলাকার পুলিশসহ কর্মরত গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যদের সতর্ক করা হয়েছে। শ্রমিকরা যাতে কোনও আন্দোলন সংগ্রাম না করতে পারে সে বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কারখানার মালিকদেরও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছিল।

নাম পরিচর প্রকাশ না করে একাধিক কারখানা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, কোনও কারখানায়ই শ্রমিক অসন্তোষ নেই। তাই শ্রমিক আন্দোলনের কোনও প্রশ্নই ওঠে না।

Facebook Comments