একজন আত্মস্বীকৃত মহাপুরুষ ও একটি চিঠি


।। অপু মোস্তফা ।।

প্রিয়তা,
ভাল আছো?
অবান্তর প্রশ্ন।ভাল থাকার প্রত্যাশায়ই তোমাকে সেদিন মুক্তি দিয়েছিলাম।
আমি ভাল নেই,আজকের এই দিনে আমি কখনওই ভাল থাকি না।আজ আমার মন খারপ দিবস।মন খারাপের দিনগুলো বড্ড দীর্ঘ হয়।এক একটি দিন যেন কয়েকযুগ।
বহুবছর আগে,আজকের এইদিনেই তোমার মুখে প্রথম “ভালবাসি” শুনেছিলাম।এরপর বহুবার শুনলেও এই দিনটি আমার মনে দাগ কেটে গেছে।কিছু ব্যাপার কখনওই ভোলা যায় না।এই যেমন তোমার অভিমানভরা চলে যাওয়ার মুহূর্তও আমি ভুলতে পারিনি।
বিশ্বাস করো আমি কাঁদিনা,শুনেছি ছেলেদের কাঁদতে নেই।অনুভূতিগুলো নিকোটিনের আগুনে বাষ্প হয়ে উড়ে যায়।
এখন আর আমি পার্কে বসে বাদাম খাই না।আমি রাস্তায় হাটি,ঢাকার প্রতিটা গলি আমার চেনা।লোকে আমায় ভবঘুরে বলে,কেউ কেউ পাগলও বলে।আমি পাগল নই,অলিতে গলিতে এক পলক দেখার আশায় আমি তোমায় খুঁজি।
তুমি বিশ্বাস করবে কি?
একসময় সিগারেটের ধোঁয়া সহ্য করতে না পারা ছেলেটার এখন অক্সিজেনই সিগারেট।
সবাই বলে,পৃথিবীতে যেদিন সিগারেট বলতে কিছু থাকবে না,সেদিন নাকি আমার অস্তিত্ব বিলীন হয়ে যাবে,
তারা হয়ত জানে না,মহাপুরুষরা মরে না এবং আমি একজন আত্মস্বীকৃত মহাপুরুষ।
হ্যা,আমি মহাপুরুষ।আমার সুখ নেই,দুঃখ নেই,আমি হাসি না,কাঁদি না।আমার ঘর নেই,বাড়ি নেই,আমার কোন পিছুটানও নেই।আছে কেবল “তুমি” নামক যন্ত্রনা।এই একটা অপরাধ ক্ষমাযোগ্য,কারন পৃথিবীতে কিছুই শতভাগ পরিপূর্ণ নয়।
সেইসব দিনগুলির কথা তোমার মনে আছে,প্রিয়তা?
মনে থাকার কথা নয়,কারন তোমার জীবনে এমন প্রেমকাহিনী এই একটাই না।
আমি ভুলিনি,কিছুই ভুলিনি।
তোমার ব্যাথাভরা অতীতের মায়ায় পরে কবে যে তোমায় ভালবেসে ফেলেছিলাম,বুঝতেই পারিনি।
তুমিই প্রথম বলেছিলে,”আমি নাকি তোমায় ভালবাসি।“
সেদিনই প্রথম বুঝতে পারি,আমিও কাউকে ভালবাসতে পারি,কাউকে নিয়ে ভাবতে পারি।
কি অদ্ভুত ব্যাপার!এগারো বছর একসাথে কাটানোর পরও কখনও তোমাকে বন্ধু ছাড়া অন্য কিছুই মনে হয় নি ,সেই তুমি দূরে যাওয়ার বছরখানেকের মধ্যেই আমি তোমার প্রেমে হাবুডুবু খেতে শুরু করলাম।
চব্বিশ ঘন্টায় কয়েক হাজার ফোনকল আর প্রতিটা মূহুর্তে তোমার অস্তিত্ব অনুভব করেই কেটেছিল সময়গুলো।কয়েক মাইল রাস্তা হেটে গিয়ে ভাড়ার টাকাটা বাঁচিয়ে রাখতাম শুধু তোমার সাথে কয়েক মিনিট বেশি কথা বলতে পারবো তাই।
জানো প্রিয়তা,এখন আর আমি ফোন ব্যবহার করিনা,ফোন ছাড়া দিব্যি ভালই কেটে যায়।ফোন একটা বাড়তি ঝামেলা,মহাপুরুষরা সব ঝামেলার উর্ধে।
প্রিয়তা,বোকার মত তোমাকে ইচ্ছে করেই বিশ্বাস করাটাই কি আমার অপরাধ ছিল?
জানো কি?কিছু বিষয় মিথ্যে জেনেও আমি তোমার কথাই বিশ্বাস করেছিলাম,আমি কখনওই চাইনি তুমি আমার কাছে অপরাধী হও।
যেদিন প্রথমবার মিথ্যে ক্যান্সারের অযুহাতে আমার থেকে দূরে সরে যেতে চেয়েছিলে,সেদিনই আমি মিথ্যেটা বুঝতে পেরেছিলাম,কিন্তু আমার মন সেদিনও তোমার জন্য কেঁদে উঠেছিলো,কেন জানি কয়েক রাত ঘুমোতে পারিনি।প্রথম পরীক্ষায় আমি পাশ করেছিলাম বলে তুমি ছাড়তে পারো নি সে যাত্রায়।
তোমার অভিশপ্ত অতীত মেনে নিয়েই তোমাকে ভালবেসেছিলাম।শুধু চেয়েছিলাম যেন অতীতের পুনরাবৃত্তি না হয়। বিশ্বাস করো প্রিয়তা,তোমার নোংরা অতীতগুলো অকপটে আমার কাছে বলেছিলে বলেই তোমার প্রতি আমার ভালবাসা কয়েকগুন বেড়ে গিয়েছিল।সেদিন বুঝিনি,এটা ছিল তোমার আমার বিশ্বাস অর্জনের কৌশল মাত্র।
আমি বোকা ছিলাম,ভীষণ বোকা ছিলাম।শুধু আমি না,প্রেমের প্রথম ধাপে প্রতিটা প্রেমিকই বোকা থাকে।প্রেম থাকা অবস্থায় প্রেমিকার সবকিছুই ঠিক মনে হয়,ভুলগুলোকেও কোন না কোন যুক্তিতে সঠিক মনে হবে।মেয়েগুলোও কেমন জানি!আজকে জ্বর,কাল পেটে ব্যাথা,পরশু আব্বু বকছে,এভাবে একের পর এক আবেগী মিথ্যা বলে প্রেমিকের ভালবাসার গভীরতা যাচাই করে,কিন্তু তারা কখনও ভাবে না,এই ছোট খাটো মিথ্যাগুলো ছেলেটাকে কতটা টেনশনে ফেলে দেয়।
বিশ্বাস করো,আমি এখন আর কাউকে নিয়ে টেনশন করিনা,কারও মৃত্যু সংবাদও আমাকে পোড়ায় না,মহাপুরুষদের নাকি অনুভূতিহীন হতে হয়।
তিনটা বছর।মাত্র তিনটা বছরই আমার জীবনের সবকিছু পাল্টে দিয়েছে এক নিমিষে।হাজার আয়োজন করেও তোমায় ভুলতে পারিনা।ভোলা সম্ভব নয়,ঘৃণা করার জন্যও মনে রাখতে হয়।আজ তোমায় ভোলার কত আয়োজন,এই আমিই একসময় তোমাতে আসক্ত ছিলাম,তুমি নামক আফিমে মগ্ন থেকে ভুলে গিয়েছিলাম পরিবার,বন্ধুবান্ধব আর চারপাশের সবকিছু।তোমায় নিয়ে কেউ কিছু বললে প্রতিবাদের দেয়াল হয়ে দাঁড়িয়েছিলাম।শুধু তোমাকে বিশ্বাস করে কত সম্পর্ক নষ্ট করেছি তার কোন হিসেব নেই।
আজ জীবনের সব হিসেব গরমিল করে বুঝতে পারছি ,তারাই ঠিক ছিল,ভুল ছিলাম কেবল আমি।
বিশ্বাস করো,তোমার নেশায় আমি ছাড়তে চেয়েছিলাম তাদের যারা তুমি চলে যাওয়ার পর আমাকে আজ অব্দি বেচে থাকার প্রেরণা জুগিয়েছে।সেদিন তোমাকে যারা মেনে নিতে পারেনি আজ তারা আমার মহাপুরুষত্বকেও মেনে নিতে পারছে না।কিন্তু তারা মুখ ফুটে কখনও কিছু বলেনি,শুধু নিভৃতে চোখের জল ফেলে যাচ্ছে।আমাকে তারা এড়িয়ে চলে,পাছে যদি চোখের জলগুলো আমি দেখে ফেলি।তাদের লাল আর অভিযোগমাখা চোখগুলো দেখলেই আমি তাদের নির্ঘুম চোখের জলের গল্পগুলো বুঝতে পারি,তবুও না বোঝার অভিনয় করে যাচ্ছি নিরন্তর।
কতটা পাগল ছিলাম আমি!ভাবতেই হাসি পায়।প্রথম যেদিন ঢাকা আসলে,তোমাকে এক পলক দেখার আসায় ছুটে গেলাম তোমার বাসার সামনে।রাত তখন দশটা হবে,জোছনার আলোতে ছয়তলার বেলকুনিতে তোমার সেই হাসির কাছে মোনালিসার হাসি কিছুই ছিল না।এর আগে বহুবার তোমাকে দেখেছি,খুব কাছ থেকেও দেখেছি,তবে সেদিনটা মনে গেথে গেছে।ভালবাসার পর প্রথম দেখা,ছয়তলার দুরত্বটা নিছকই একটা পরিমাপ মনে হয়েছিল।
প্রথম দেখা,প্রথম স্পর্শ,প্রথম জড়িয়ে ধরা,ভালবাসার পর এরকম বহু প্রথম আছে যা একসময় চরম সুখানুভুতি হলেও এখন কেবলই দুঃস্বপ্নের মত ।
আমি সৌখিন বৃষ্টিপ্রেমিক মানুষ ছিলাম।
ইচ্ছে ছিল,তোমায় নিয়ে সারারাত বৃষ্টিতে ভিজবো,বুড়ো বয়সে বাচ্চাদের তোমার আমার প্রেমকাহিনী শুনিয়ে সময় কাটাবো।আরও কতশত ইচ্ছে ছিল।আজ ইচ্ছেগুলো মাটিচাপা দিয়ে দীর্ঘশ্বাস নিয়ে বেঁচে আছি।
জানো,আমি আর বৃষ্টিতে ভিজি না।বৃষ্টির ফোটাগুলো স্মৃতিগুলো ভিজিয়ে সতেজ করে দেয়।আমি স্মৃতি ভুলে যেতে চাই,ভুলে যেতে চাই “তুমি” নামক যন্ত্রণার অস্তিত্ব।
বুড়ো হবো ঠিকই,তবু গল্পগুলো বলা হবে না কাউকে।তোমার আমার প্রেমের করুণ পরিণতি শুনিয়ে শিশুদের কোমল মনে কষ্টের পাহাড় চাপিয়ে দেয়াটা বোধহয় ঠিক হবে না।
প্রিয়তা,শুনেছি তুমি মা হয়েছো।কথা দিয়েছিলে তোমার সন্তান আমাদের সন্তান হবে।কিন্তু দেখো আজ তুমি ঠিকই মা হয়েছো যার বাবা অন্যকেউ।তুমি জানো আমি ভাগ্যে বিশ্বাসী না,তবুও আজ কেন যেন ভাগ্যকে খুব বেশিই বিশ্বাস করতে ইচ্ছে করতেছে।
ছেলের নাম রেখেছো কি?
অনুভব?
বোকা প্রশ্ন।“অনুভব” আমাদের সন্তানের নাম হওয়ার কথা ছিল।ও তো কেবল তোমার সন্তান, আমাদের নয়।
তোমার সন্তানকে কখনও আমার কথা বলো না,বলো না, “আমি” নামক কারও সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করে চলে গিয়েছিলে তার কোটিপতি বাবার কাছে।কোন সন্তানই মায়ের বিশ্বাসঘাতকতা সহজভাবে নিতে পারে না।
ভালোই আছো?শুনলাম,শ্বশুর বাড়ির সবাই তোমার প্রশংসায় পঞ্চমুখ।করবেই না কেন!এমন সুনিপণ অভিনেত্রী পাওয়া তো দুষ্কর।
আর আমি?মহাপুরুষরা থাকে ভাল-খারাপের মাঝামাঝি।
গলির পাশের চায়ের দোকানের রহিম চাচা আমাকে প্রতিদিন তিন কাপ ফ্রি চা খাওয়ায়।আমি নাকি তার ভাগ্য খুলে দিয়েছি।প্রতি মাসে আমি ওনার দোকান থেকে যে পরিমাণ চা-সিগারেট খাই তা নাকি আমি আসার আগে তার তিন মাসের মোট বেচা-বিক্রির চেয়েও বেশি।চায়ের অভ্যাসটা পুরনো,তোমার অপেক্ষায় তোমার বাসার সামনের চায়ের দোকানে বসে যে কত কাপ চা খেয়েছি তার কোন ইয়াত্তা নেই,আর সিগারেটের অভ্যাসটা হয়েছে তুমি যাওয়ার পর।
প্রিয়তা,মাঝে মাঝে তোমাকে খুব দেখতে ইচ্ছে করে।চলে যাওয়ার পর আর কখনও তোমার দেখা পাইনি।আমার “তুমি” আর বিশ্বাসঘাতক তুমি দেখতে কি হুবহু একই রকম?শুনেছি বিশ্বাসঘাতকদের চোখের ভাষা অন্যরকম হয়।তোমার যা কিছু আমার ভাল লাগতো তার মধ্যে তোমার সেই লাজুক লাজুক চোখদুটো অন্যতম।বদলে যাওয়া চোখদুটো যদি সহ্য করতে না পারি,এই ভয়ে কখনও তোমার কাছে যাইনি,যাওয়ার চেষ্টাও করিনি।ভাবছি বুড়ো বয়সে একবার দেখা করব।তোমার জীবনে সকল পরিপুর্ণতা আসার পর শেষবারের মত একটা প্রশ্ন করবো,”সত্যিই কি আমাকে কখনও ভালবেসেছিলে?”
জানি সম্ভাব্য উত্তর না,তবুও “হ্যা”সূচক উত্তরের আশায়ই তো বেঁচে আছি।ততদিন না হয় বেঁচেই থাকি।
আমার রাতগুলোর বেশিরভাগই কাটে রাস্তায় রাস্তায়।কিছু কিছু রাতে তারাগুলোর প্রেমে পরে যাই,আবার মাঝে মাঝে অসহ্য লাগে।রাতের আকাশে মাঝে মাঝে তোমার অবয়ব ভাসে,আমার সহ্য হয় না,মনে হয় সিগারেটের আগুনে আকাশটা পুড়িয়ে ভস্ম করে দেই।আকাশ পুড়িয়ে ভস্ম করা যায় না,পুড়িয়ে ভস্ম করা যায় না মনের কোন পরে থাকা স্মৃতিগুলোও।
আমার নিজের একটা শহর আছে।সে শহরে কোন মিথ্যুক নেই,নেই কোন বিশ্বাসঘাতক,কোন নিয়মনীতির বালাই না,কোন সরকার নেই,নেই কোন আইন।আমার শহরে আমার অবাধ বিচরণ।আমার শহরের কেউ আমাকে পাগল বলে মুচকি হাসে না,কেউ বখে যাওয়া নষ্ট ছেলেও আখ্যা দেয় না।
মানুষ বলে ভালবাসা সত্যি হলে নাকি ভালবাসার মানুষ একদিন ঠিকই ফিরে আসে।মনগরা মিথ্যা কথা।কেউ ফিরে আসে না,শুধু স্মৃতিগুলো না চাওয়া সত্যেও বারবার ফিরে আসে।আমি এখন আর তোমায় নিয়ে ভাবতে চাই না,তবুও ভাবনায় তুমি চলে আসো বারবার।তুমি চলে গেছো বহু বছর হলো।স্মৃতির ফ্লাশব্যাকে এই তুমিহীন সময়গুলোর কোন অস্তিত্ব নেই,কিন্তু তোমার সাথে কাটানো তিনটি বছরের প্রতিটি মুহূর্ত আমার মনের ঘরে জ্বলজল করছে।
আমার স্পষ্ট মনে আছে,তোমার প্রিয় রঙ কালো,তোমার ঘুম থেকে দেরীতে উঠার অভ্যাস,তোমার রাগ বেশি,তুমি খেতে পছন্দ করো,তোমার ঘুরতে ভাল লাগে,তুমি গান গাইতে পারো,খুবি গুছিয়ে কথা বলতে পারাটাও তোমার বহুগুনের একটা।আমার স্পষ্টমনে আছে তোমার বাম হাতের তিলের কথা।শুধু মনে নেই তুমি চলে যাওয়ার পরের বিভৎস মুহুর্তগুলোর কথা।
আমার ভুলো মন।আমি নিজেকেই ভুলে যাই,তবু শত চেষ্টা করেও ভুলতে পারিনা তোমাকে।তুমি আমার শিরা-উপশিরায় ঢুকে যাওয়া স্মৃতির বিষ।
ভালবাসার মানুষের সব সীমাবদ্ধতা,দোষ,ত্রুটি মেনে নিয়েই ভালবাসতে হয়।তুমি মেনে নাও নি,নিতে পারোনি।তোমার ইচ্ছে ছিল প্রেমিকের বাইকে উঠে লং ড্রাইভে যাবে,আমার বাইক ছিল না।তোমার ইচ্ছে পূরনের রাস্তাটা আমি মেনে নিতে পারিনি।তুমি স্বেচ্ছাচারী,প্রচন্ড স্বেচ্ছাচারী।ইচ্ছে পূরন করতে তুমি সাবেক প্রেমিকের বাইকে উঠতেও দ্বিধা করোনি।
সেদিনই প্রথম তোমার প্রতি আমার প্রচন্ড রাগ হয়েছিল।আমার স্পষ্ট মনে আছে,দুরত্বের শুরু সেখান থেকেই।
তোমার প্রেম হয়েছিল শহুরে হাসানের সাথে,তাই তুমি আমার গ্রামে ফিরে যাওয়াকেও মেনে নিতে পারোনি।আমি খ্যাত ছিলাম,এটাও তোমার অভিযোগুলোর একটা। আমি আবার ঢাকা ফিরে এসেছিলাম ভালবাসার টানেই।তোমার বিলাসিতা আমার ভবিষ্যত অন্ধকারে ঠেলে দিলেও আমি কোন অভিযোগ করিনি।তবুও তোমার চলে যেতে হলো,প্রিয়তা?
কারনগুলো তুচ্ছ,ছেড়ে যাওয়ার বাহানা ছিল মাত্র।আমি বুঝতে পারি,বেশ ভাল করেই বুঝতে পারি।ছোটবেলা থেকেই বিনাদোষে কোন শাস্তি আমি মেনে নিতে পারতাম না,তাই হয়তো তোমার চলে যাওয়াটা প্রচন্ড পোড়ায়।আমি বিয়ে করিনি,প্রিয়তা।হয়তো কখনও করবোও না।একজনকে ভালবেসে সর্বক্ষণ অন্য কারও অস্তিত্ব অনুভব আমার সহ্য হবে না,অযথা কেবল আমার ভালবাসার করুণ গল্পের মাঝখানে পিষ্ট হয়ে নষ্ট হবে অন্য আরেকটি চরিত্র।
প্রিয়তা, আজ অনেক বেশিই তোমায় মনে পরছে।বাইরে প্রচন্ড বৃষ্টি হচ্ছে।তুমি বলেছিলে আমার হাতে হাত রেখে বৃষ্টিতে ভিজে আমার ইচ্ছে পূরন করবে আর বাজ পরার শব্দে ভয় পাওয়ার অভিনয় করে আমাকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরবে।এরপর বহু বর্ষা পেড়িয়ে গেলো তবু আমার স্বপ্ন অপূর্ণই থেকে গেলো।কিছু মানুষ স্বপ্নই দেখে তা স্বপ্ন হিসেবে বাঁচিয়ে রাখার জন্য।আমি তাদের দলে।কিন্তু স্বার্থপরদের মত নিজের স্বপ্ন বাঁচিয়ে রেখে মেরে ফেলেছি আমাকে নিয়ে দেখা আরও কিছু মানুষের স্বপ্ন।আমি ঘুমাতে পারিনা।চোখ বন্ধ করলেই তোমার একটা অবয়ব ভাসে..
মাঝ রাতে বারান্দার গ্রীলের বাইরের আকাশটা যখন দেখি খুব খারাপ লাগে। আকাশটা কেন জানি হাহাকার দিয়ে ভরে দেয় ভেতরটা।ইচ্ছে ছিল তোমায় নিয়ে মাঝে মাঝে আকাশ দেখবো।
ছোট থেকেই আবেগটা আমার বেশি।
আবেগ বেশি বলেই হেরেই গিয়েছি সবখানে।আমি ভালোবাসতে শিখেছিলাম, কাউকে পেতে শিখিনি।
কিছু কিছু জিনিস শেখা আসলেই দরকার।
না শিখলে অন্য শিক্ষা হয়ে যায়।
এই যে ভালোবাসার মানুষকে কাছে পেতে শিখিনি বলেই দূর হতে ভীড়ের মাঝে দাঁড়িয়ে দেখি তোমাদের ভালোবাসার গল্প।সেই গল্পের স্যুট টাই পরা ভদ্রলোকের জায়গায় কেন জানি নিজেকে ভাবতে পারি না।
চেয়েছিলাম,রুপকথার গল্পের মত তোমার আমার গল্পেরও একটা সফল পরিসমাপ্তি হবে।হয়তো বিধাতাও জানে আমার প্রিয় চরিত্র দেবদাস।তুমি পার্বতি হতে পারো,তবুও আমি দেবদাস নই।আমি মহাপুরুষ,আত্মস্বীকৃত মহাপুরুষ।প্রতিটা বিচ্ছেদের নেপথ্যে একটা পার্বতী থাকলেও বিচ্ছেদের কারনে সবাই দেবদাস হয়না,কেউ কেউ মহাপুরুষও হয়।
প্রিয়তা,তোমাকে ভালবাসার অপরাধ ক্ষমার অযোগ্য।তাই আমি নিজেকে ক্ষমা করিনি।ভালবাসার অপরাধের শাস্তি কখনওই মৃত্যুদন্ড নয়,তাই নিজেকে বাঁচিয়ে রেখেছি।বেঁচে থেকেও প্রতি মূহুর্তে নিজেকে মৃত মনে হওয়ার চেয়ে জঘন্য শাস্তি আর কিছু নেই।বেঁচে থাকুক আমার প্রাণ, মরে যাক আমার অনুভূতিগুলো,তবুও ভাল থাকো তুমি।
ইতি,
একজন আত্মস্বীকৃত মহাপুরুষ

Facebook Comments