রিক্সা চালক শফিকুল ইসলাম

‘ঈদের দিন বুকের ভেতরটা মোচড় দেয়’


মাজেদুল হক তানভীর।।

‘ঈদের দিন বুকের ভেতরটা মোচড় দেয়। এই কষ্ট বইলা বুঝান যাইবে না বাহে। সবাইরে দেহি বউ বাচ্চা নিয়া ঈদ করে। ভালমন্দ খাইয়া একলগে ঈদ করে। আর হামরা (আমরা) দুই বেলা খাওন যোগাড় করতে পারি না। আজ ২৬ বছর হলো ঈদ করি না’।

শনিবার (২ সেপ্টেম্বর) ঈদের দিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি এলাকায় রাতে রিক্সা চালাতে চালাতে কথাগুলো বলছিলেন শফিকুল ইসলাম।

রিক্সা চালক শফিকুল ইসলাম

৫১ বছর বয়সী এই রিক্সাচালক কুড়িগ্রাম জেলার উলিপুর উপজেলায় বাসিন্দা। জীবিকার তাগিদে পরিবার ছেড়ে রাজধানীতে রিক্সা চালান।

ঈদের দিন কেমন করে উদযাপন করলেন? এমন প্রশ্নের উত্তরে মলিন হাসি দিয়ে শফিকুল জানালেন, ‘আমাগো আর ঈদ। সকাল বেলা পাঁচটা রুটি খাইয়া বাইর হইছি। এই হইলো সারাদিনের খাবার। অন্য মাইনশের (মানুষের) ঈদ দেইখা দেইখা মোর ঈদ কাটে। পরিবারের মানুষদের জন্য কষ্ট লাগে। তারপরেও কিছু করার নাই। সুযোগ পাইলে কয়দিন পরে বাড়ি যামু।’

ঈদে বাড়ি যাননি; মন খারাপ হয়নি? এমন প্রশ্ন করলে শফিকুল বলেন, ‘মন খারাপ তো হইছেই। ঈদে সবাই পরিবারের লগে থাকে, আনন্দ ফূর্তি করে। কিন্তু আমি ঢাকায় একা পইরা আছি, মন খারাপতো লাগছেই। কিন্তু এত টাকা খরচ কইরা বাড়িত গেলে ছইলের (সন্তানের) পড়াশোনার টাকা দিতে পারতাম না। আমার ছইলরা (সন্তানরা) মানুষ হইলেই মোর (আমার) আনন্দ।

তিনি বলেন, ছইলগুলার (সন্তানদের) লেখাপড়ার খরচ অনেক। তাই বাড়ি গিয়া টাকা খরচ না করে, তাদের জন্য টাকা পাঠিয়ে দিয়েছি। তবে ঈদের দিন স্ত্রী, সন্তাদের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন শফিকুল ইসলাম। ফোনের মাধ্যমেই ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করে নিয়েছেন তিনি। তার ভাষায় সন্তানদের সুখের জন্যই তিনি এই ত্যাগ স্বীকার করছেন।

Facebook Comments